সংবাদ সম্মেলনে র্যাব মহাপরিচালক
বিশেষ প্রতিনিধি
রাজধানীর কূটনীতিকপাড়া গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, এছাড়া বিপত্গামী ১৫ জঙ্গি সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব মহাপরিচালক।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস হামলা চালায় জঙ্গিরা। তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। ঐ ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে পুরো দেশ। সেদিন জঙ্গিরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে, যাদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, সাত জন জাপানি, এক জন ভারতীয় ও তিন জন বাংলাদেশি। সেই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন।
জঙ্গি দমনে র্যাব প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলছে জানিয়ে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠা থেকে আমরা ২ হাজার ৫৫১ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। ’
র্যাব প্রধান বলেন, ‘কিশোর গ্যাং’ কালচারের লাগাম টেনে ধরা দরকার। র্যাব ‘কিশোর গ্যাং’ নামক অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি বলেন, লকডাউন নিশ্চিত করার পাশাপাশি র্যাব ভেজাল পণ্য, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।
এছাড়াও গত এক বছরের বেশি সময় ধরে আমরা মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, অবৈধ কিট, ভুয়া রিপোর্ট ইত্যাদি সম্পর্কীয় অভিযান পরিচালনা করছি। সাম্প্রতিক সময়ে করোনাসহ বিভিন্ন রোগের টেস্টিং কিট ও রি-এজেন্ট জব্দ ও প্রতারক চক্রের হোতাসহ ৯ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করে র্যাব। মাদক ইস্যুতে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা অপ্রচলিত কিছু মাদক দেখতে পাচ্ছি। তাদেরকে গ্রেফতার করছি। এরই মধ্যে ৪৬ হাজারের বেশি মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে কিছু নাশকতার পরিকল্পনা হয়েছিল। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম হয়েছে। আমরা তাদের গ্রেফতার করেছি। ’
