রাজশাহীর তানোরের বহরইল গ্রামে দুই দিনে অজ্ঞাত রোগে ৪ জনের মৃত্যুর পর আরেক নারী রাহেলা বেগমের (৪৮) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়িতে রাহেলা মারা যান। তিনি ওই গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। এ নিয়ে ওই গ্রামে শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমন সব মৃত্যু নিয়ে ওই গ্রামসহ আসপাশের গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অসুস্থ হয়ে আছেন আরো ৮/১০ ব্যক্তি।
এদিকে রাহেলা বেগমের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ফের ১০ সদস্যের মেডিকেল টিম শনিবার সকালে বহরইল গ্রামে গিয়ে রাহেলা বেগমের মৃত্যুকারণ ও নমুনা সংগ্রহ করে গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. রোজিয়ারা বেগম।
এর আগে শিশুসহ ৪ জন মৃত্যুর পর উপজেলা ও জেলার মেডিকেল টিম দুই দিনব্যাপী সেই গ্রামে গিয়ে মৃত্যুর বিবারণ শুনে গ্রামবাসীকে আতঙ্ক না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে এসেছিল।
মৃত রাহেলা বেগমের স্বামী আনোয়ার হোসেন জানান, ‘তার স্ত্রীর বড় কোন অসুখ ছিল না। সে সুস্থই ছিল। শুক্রবার বিকালে পাশের মুমালা বাজারে গিয়ে পোষাক কিনে এনেছেন। রাতে খাওয়ার জন্য মুরগিও এনে রান্না করে খেয়েছেন সবাই। রাতে শুয়ে ভোর রাতে তিনি হঠাৎ ঝাকুনি দিয়ে উঠেন। তারপরে বলতে থাকেন তার বুক জলে পুড়ে যাচ্ছে। আমরা তাকে মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু মধ্যে তিনি মারা যান।’
আনোয়ার হোসেন আরো জানান, ‘গ্রামে এক সাথে এতো মানুষের অজ্ঞাত রোগে হঠাৎ মৃত্যু দেখে তার স্ত্রী কই দিন ধরে ভীতি অবস্থায় ছিলেন। ওই ৪ জনের মৃত্যুর পাঁচ দিনের মাথায় তিনি মারা গেলেন। এমন সব মৃত্যু দেখে আমিসহ গ্রামে অনেক মানুষ এখন ভীতি অবস্থায় পড়েছে।’
আরো পড়ুন: ৪ মাস যাবত প্রতিবেশী চাচার ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী তরুণী
বহরইল গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল লতিব বলেন, ‘গ্রামের মানুষ অজ্ঞাত রোগ নিয়ে বেশ আতঙ্কে আছে। তবে গ্রামের অনেক মানুষ-জ্বীনে আছর বা রক্ত চোষা ডাইনির কারণে অকাল মৃত্যু বলে প্রচার করছেন। সে সঙ্গে সন্ধা বেলায় বাড়ি থেকে আর কেউ বের হচ্ছেনা। শুধু বহরইল গ্রামই নয়, এর প্রভাবে আসপাশের গ্রামেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশের শীতপুর গ্রামে মেহের জান বিবি নামের এক নারী অসুন্থ হয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়ে ছিল। গ্রামে কয়েক এখন অসুস্থ হয়ে আছে।’
তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. রোজিয়ারা বেগম আরো এক জনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা স্বাীকার করে জানান, ‘শনিবার রাহেলা বেগম মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ১০ সদস্যে মেডিকেলের বিশেজ্ঞ টিম বহরইল গ্রামে গিয়ে মৃত্যুর কারণ, ধরণসহ নানা বিষয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। পরিবারের সদস্যসহ গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে এসেছেন। কি কারণে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়েও বিশেজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।’
ডা. রোজিয়ার খাতুন আরো জানান, ‘এসব মৃত্যুগুলো কোন ভাইরাস জনিত কিনা বা সে গ্রামের মানুষ খেজুরের রস খেয়েছেন কিনা তা সব গুলোই মাথাই রেখে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়ে শনিবার অভিহিত করেছি। এর ৫ দিন আগে শিশুসহ চার জনের মৃত্যু পরে উপজেলা ও জেলার সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ওই গ্রাম পরিদর্শন করেছেন।’
ইত্তেফাক/বিএএফ
