পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ধনকড়ের পদত্যাগ দাবি

আপডেট : ২৯ জুন ২০২১, ২৩:০৪

জৈন হাওয়ালা দুর্নীতির ঘটনাকে ফের জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ধন্যবাদ জানিয়েছে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন। তাদের পক্ষ থেকে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।  সংগঠনের কর্মী বিনীত নারায়ণ বলেছেন, নৈতিক কারণে তার সরে যাওয়া উচিত।

গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় তিনি গভর্নর ধনকড়ের বিরুদ্ধে সরাসরি মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে হাওয়ালা মামলার তদন্ত দাবি করেছেন।  তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং গভর্নর হিসেবে তার (ধনকড়) মিথ্যা কথা বলা উচিত নয়। আমি তাকে প্রশ্ন করব, সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে চলা জৈন হাওয়ালা মামলার অভিযুক্তদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ তিনি দিতে পারবেন কি? বিনীত নারায়ণ অভিযোগ করেন, উদ্ধার হওয়া জৈন ভাইদের ডায়েরিতে তত্কালীন ‘সাবেক মন্ত্রী’ ধনকড়ের নামে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি লেখা ছিল। পাশাপাশি, প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কেরালার বর্তমান রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খানের বিরুদ্ধেও। নৈতিকতার কারণে তাদের অবিলম্বে গভর্নরের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ১৯৯৩ সাল থেকে আমি এই মামলা লড়ছি। হাওয়ালা-কাণ্ড শুধু দুর্নীতির নয়, এর সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর অর্থের জোগানের বিষয়টি জড়িত।

প্রসঙ্গত, সোমবার ধনকড়ের বিরুদ্ধে হাওয়ালা-কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে মমতা বলেছিলেন, উনি এক জন দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ। জৈন হাওয়ালা মামলায় তার নাম রয়েছে। প্রথমে আদালতকে ম্যানেজ করে নাম বাদ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে ফের রিট পিটিশন জমা পড়ে। এখনও তার নিষ্পত্তি হয়নি। মমতার এই অভিযোগের পর সাংবাদিক সম্মেলনে ধনকড় বলেন, এখনও জৈন হাওয়ালা-কাণ্ডে কেউ দোষী সাব্যস্ত হননি। হাওয়ালা চার্জশিটে আমার নাম ছিল না। আমার বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ নেই। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে এই ধরনের মন্তব্য করা উচিত নয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে কাশ্মীরি জঙ্গি আশফাক হুসেন লোনের গ্রেফতারিতে জৈন হাওয়ালা কাণ্ড প্রকাশ্যে আসে। তাকে জেরা করে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার ব্যবসায়ী সুরেন্দ্র কুমার জৈন এবং তার পরিবার মারফত হিজবুলের কাছে অর্থ সাহায্য যেত। তল্লাশিতে প্রচুর বিদেশি মুদ্রা, দু’টি ডায়েরি, নোটবুক উদ্ধার হয়। সেখানে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামের আদ্যাক্ষর পাওয়া যায়, যাদের কাছ থেকে সুরেন্দ্র মারফত হিজবুলের কাছে টাকা যেত। ভারতের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই র্জশিটও দায়ের করলেও তদন্ত মাঝপথে থমকে যায়। পরবর্তীতে ফের মামলা শুরু হয়। সেই সময় গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সুরেন্দ্রর বাড়িতে উদ্ধার নোটবুকে ধনকড় বলে এক ব্যাক্তির নাম ছিল। তিনি তত্কালীন জনতা দলের এমপি ছিলেন। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন, সেই সময় ভারতের সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে বিজেপি-তে যোগ দেন ধনকড়। খবর:আনন্দবাজার পত্রিকার।