প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন (৪ হাজার ৬০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা। গতকাল মঙ্গলবার দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার, যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার হিসেবে সাড়ে ১১ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়।
রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, মূলত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই এই সফলতা এসেছে। এজন্য আমি আবারও প্রবাসী ভাইবোনদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এ ছাড়া রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা এবং বিদেশি ঋণ-সহায়তা বৃদ্ধি, রিজার্ভ বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষ মাস জুনের ২৮ দিনে (১ জুন থেকে ২৮ জুন) ১৭৫ কোটি ২০ লাখ (১.৭৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের জুনের এই ২৮ দিনে এসেছিল ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে বিদায়ি অর্থবছরের ২৮ জুন পর্যন্ত ২৪ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩৬ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি।
মহামারির মধ্যেও চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৫ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। আর অর্থবছরের দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বিদেশি ঋণ সহায়তা এসেছে ৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। অন্যদিকে এই ১০ মাসে ৪৮ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। এ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, আমদানি ব্যয় বাড়ার পরও রিজার্ভ বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা অব্যাহত।
