মগবাজার ট্র্যাজেডি

দুই দিন পর ধ্বংসস্তূপে কেয়ারটেকারের লাশ

আপডেট : ২৯ জুন ২০২১, ২৩:০৮

মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আংশিক ধসে পড়া রাখী নীড়ের নিখোঁজ তত্ত্বাবধায়ক হারুন অর রশিদ হাওলাদারের (৭০) মরদেহ দুই দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, ওনার মেয়ে বলেছিলেন ‘আব্বা মিসিং।’ বেলা সাড়ে ৩টা নাগাদ সিঁড়ির কাছে চিলেকোঠার ধ্বংসস্তূপের নিচে তার লাশ চাপা পড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। এ নিয়ে ঐ বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট আট জনের মৃত্যু হলো। হারুন অর রশিদের মেয়ে হেনা বেগম বলেন, গত রবিবার ঐ বিস্ফোরণের পর থেকে তার বাবার খোঁজ মিলছিল না। সব হাসপাতালে খোঁজ নিয়েও বাবাকে না পেয়ে তিনি ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীদের জানান। গতকাল বিকালে উদ্ধারকর্মীরা লাশ উদ্ধারের পর হেনা বেগম তার বাবাকে শনাক্ত করেন। এছাড়া এ ঘটনায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আরো তিন জন। বিস্ফোরণে নিহত অন্যরা হলেন—কলেজ শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, প্রাইভেট কারচালক স্বপন, বাসচালক আবুল কাশেম মোল্লা,  বেসরকারি চাকরিজীবী রুহুল আমিন, ভবনের নিচতলায় থাকা শর্মা হাউজের পাচক ওসমান গনি তুষার, সেখানে খেতে যাওয়া জান্নাত বেগম এবং তার ৯ মাসের মেয়ে সোবহানা। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে মগবাজার ওয়্যারলেস গেট এলাকা কেঁপে ওঠে। ৭৯ নম্বর রাখী নীড় অনেকটাই ধসে পড়ে।

এদিকে অনুসন্ধানে নেমে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, এটা গ্যাসেই বিস্ফোরণ। ফায়ার সার্ভিসও বলেছে, তিন তলা ঐ ভবনে গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। বিস্ফোরক অধিদপ্তরও বলছে একই কথা। তারা ধ্বংসস্তূপের বাতাস পরীক্ষা করে সেখানে হাইড্রোকার্বন গ্যাসের উপস্থিতি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তবে কেন, কীভাবে ঐ বিস্ফোরণ ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছুই কেউ বলেননি। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক অধিদপ্তর এবং পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় কারো দায় থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিস্ফোরণ ‘গ্যাসে’, পুলিশের তদন্ত কমিটি : পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ‘গ্যাস’ থেকেই ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখন এই গ্যাসের উত্স খুঁজে বের করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির সভাপতি পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান। রবিবার সন্ধ্যায় মগবাজারের ওয়্যারলেস গেটে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনার কারণ খুঁজতে সোমবার রাতে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে পুলিশ। গতকাল থেকে কাজ শুরু করেছে এই কমিটি। সকালে কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্তলে ১২ শতাংশ মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মিথেন গ্যাস থেকেই এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে অনুমান করছি। তবে এই গ্যাসের উত্স কী, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থ-আইইডির বিস্ফোরণ কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতবড় পরিসরের বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। আলামত সংগ্রহ করছি। তবে এখানে কোনো আইইডি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। সেটা পরিষ্কার।

হেলে পড়েছে আরেকটি ভবন : এদিকে গতকাল  বিস্ফোরণ স্থলের পাশের আরেকটি দোতলা ভবন হেলে পড়েছে বলে চিহ্নিত করেছে কারিগরি কমিটি। এই ভবনকে বিপজ্জনক ঘোষণা করে ভেতর থেকে লোকজনকে সরে যেতে বলা হয়েছে।