ইরাক-সিরিয়া সীমান্তে হামলার নির্দেশ দিয়ে নিজ দলেই সমালোচনার মুখে বাইডেন

আপডেট : ২৯ জুন ২০২১, ২৩:১১

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এককভাবে বিমান হামলার নির্দেশ দিতে পারেন কি না, তা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রশ্ন উঠেছে। তার নিজ দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটররাই এই প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও সিরিয়ায় একইভাবে হামলার নির্দেশ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বাইডেন। তবে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এককভাবে হামলার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা তার আছে। গত শনিবার ইরাক ও সিরিয়া সীমান্তে বিমান হামলা চালানোর নির্দেশ দেন বাইডেন।

বাইডেনের সমালোচনা

এমন সময়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ইরাক-সিরিয়া সীমান্তে বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, যখন দুই দশক ধরে বিদ্যমান প্রেসিডেন্টের এই                  ক্ষমতা বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে। মূলত ইরাকে হামলার সময় এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল প্রেসিডেন্টকে। মার্কিন সংবিধানের আর্টিকেল-২-এ এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্টকে। সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ সদস্য ক্রিস মারফি বলেন, ভোটারদের সম্মতি ছাড়াই তিনি একটি সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর কাজ করেছেন, যার ফলে সৃষ্টি হতে পারে যুদ্ধ। সিনেটর বব মেনেনদেজ প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্দেশের বিষয়ে আইনগত দিক খতিয়ে দেখতে চান। আর্টিকেল-২-এ প্রেসিডেন্টকে দেওয়া ক্ষমতা অনেক ব্যয়বহুল, যাকে সমর্থন করেন না অনেক ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান। সোমবার মেনেনদেজ বলেন, সামরিক শক্তির ব্যবহার এবং যুদ্ধের ঘোষণাকে অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তিনি বলেন, তার কমিটি হামলার বিষয়ে প্রশাসনের কাছে আরো জানতে চাইবে।

আমার ক্ষমতা আছে :বাইডেন

সংবিধানে তাকে এককভাবে হামলার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। সোমবার হোয়াইট হাউজে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট রেউভিন রিভলিনের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট বাইডেন জানিয়েছেন, এই ক্ষমতা তার আছে। সিরিয়ায় নির্দিষ্ট জঙ্গি ঘাঁটিতে আমেরিকা হামলা চালিয়েছে। তিনটি ঘাঁটি ধ্বংস করা গেছে। যাদের মৃত্যু হয়েছে, তারা জঙ্গি বলেও দাবি করেছেন বাইডেন। ইসরাইলও মার্কিন বিমান হামলা সমর্থন করেছে। বস্তুত, সিরিয়ায় ইরানের মদতপুষ্ট একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে বলে বাইডেনকে জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট। বাইডেন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরো হামলা হবে। বৈঠকে ইরান প্রসঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয় তাদের। ইরানকে কার্যত হুমকি দিয়ে বাইডেন জানিয়ে দেন, তিনি যত দিন আমেরিকার প্রেসিডেন্টের পদে থাকবেন, তত দিন ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। —পলিটিকো ও ডয়েচেভেলে