আট বছরের সহোদর হত্যার অভিযোগে বড় ভাইয়ের (১২ বছর) কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ের অভিযোগে মামলার দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ৩ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। তলবকৃতরা হলেন, ঐ হত্যা মামলার তদন্তে নিযুক্ত প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার। যিনি বর্তমানে নাটোরে সিআইডির পরিদর্শক হিসাবে কর্মরত আছেন। তাকে লিখিত ব্যাখাসহ আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে বড় ভাইকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছিলেন তিনি। আর মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়ার পিবিআইয়ের এসআই মো. মনসুর আলীকে মামলার কেস ডকেট (সিডি) নিয়ে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি এম আতোয়ার রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে মো. শিশির মনির ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশিরউল্লাহ শুনানি করেন।
শুনানিতে শিশির মনির বলেন, নিম্ন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা যথাযথভাবে তদন্ত না করে প্রকৃত অপরাধী বাদ দিয়ে শিশুর বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। এজাহারে খুনের শিকার আট বছর বয়সি শিশুর গলাকাটা লাশের কথা বলা আছে। সুরতহালেও গলাকাটা চিহ্নের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে বলেন যে, খুন হওয়া শিশুটির গলায় ধারালো কঞ্চি ঢুকানো ছিল। তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে দোষীপত্র দাখিল করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর ১২ বছর বয়সি শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটি আদালতে উপস্থিত হয়ে প্রচণ্ড মারপিটের কথা বলে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখায়। ১১ জুন একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘বিয়ারিং দ্য আনবিয়ারেবল’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী। রিটে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট ৮ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধারের এক দিন পর সারিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন তার বাবা মহিদুল। ঐ বছরের ২৯ নভেম্বর হঠাত্ করেই স্থানীয় থানার একদল পুলিশ তার বাড়িতে যায়। জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলে ১২ বছরের বড় ছেলেকে নিয়ে যায়। ৩০ নভেম্বর পুলিশ ঐ শিশুটিকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে। বাবা-মা ছোট ভাইকে তার চেয়ে বেশি ভালোবাসায় খুন করেছে বলে জানায় শিশুটি। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে শিশু আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে এবং পরিবারের সঙ্গে থাকার অনুমতি দেন। কিন্তু, সন্দেহভাজন হিসেবে প্রতিটি শুনানিতেই উপস্থিত থাকতে হয়েছে ঐ শিশুকে। দিনমজুর মহিদুলের অভিযোগ, খুনিরা প্রভাবশালী। প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে ছোট ছেলেকে খুনের স্বীকারোক্তি দিতে বড় ছেলেকে বাধ্য করা হয়েছে। পরে অভিযোগপত্র দিলে তাতে নারাজি দেন তিনি। ২০১৭ সালে পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয় আদালত। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন বলে জানান শিশির মনির।
