কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি সৈকতের বালুচরে পুঁতে রাখা তিমির কঙ্কালগুলো গত দু’দিন আগে হঠাৎ ভেসে উঠে। আঁচড়ে পড়া ঢেউয়ের তীব্রতায় চাপা বালি সরে গিয়ে এসব কঙ্কাল দৃশ্যমান হয়ে বালির উপরে উঠে চরম দূর্গন্ধ ছড়ায়। রবিবার (২৭ জুন) দুপুরে জোয়ারের পর থেকে কঙ্কালের বিচ্ছিন্ন অংশ দৃশ্যমান হওয়া শুরু করে।
হাড় থেকে মাংস ভালো মতো ঝরে না যাওয়ায় বালিয়াড়িতে উঠে আসা কঙ্কাল থেকে ছড়ানো দূর্গন্ধে এলাকায় টেকা দায় হয়ে পড়ে। এটি জানার পর রামু উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগ সোমবার (২৮ জুন) থেকে শুরু করে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে ভেসে উঠা কঙ্কালগুলো আবারো পুঁতে ফেলতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা।
তিনি বলেন, রবিবার দুপুরের জোয়ার শেষে ভাটার টান পড়ার পর সৈকতের হিমছড়ির দরিয়ানগর এলাকায় তিমির কঙ্কালের কয়েকটি বিচ্ছিন্ন অংশ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সোমবার সকালে রোদ লাগার পর তা থেকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (দক্ষিণ) হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে তা সরানোর প্রচেষ্টা চলে। মঙ্গলবার বেলা ৩টায় কঙ্কালগুলো পুঁতে ফেলা সম্ভব হয়।

গত ৯ ও ১০ এপ্রিল হিমছড়ি সৈকতে ভেসে এসেছিল প্রায় ২৫ ও ২০ টন ওজনের দুটি মৃত অর্ধগলিত তিমি। সেগুলো বালুচরে পুঁতে ফেলা হয়েছিল। মাংস পঁচে মাটির সাথে মিশে গেলে তিমির কঙ্কালগুলো সংগ্রহ করে সংরক্ষণের কথা ছিল।

কিন্তু তার আগেই তিমির কঙ্কালগুলো ভেসে উঠে বালিয়াড়িতে। সমুদ্র বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদীদের ধারণা, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জাহাজের ধাক্কায় অথবা প্লাস্টিক বর্জ্য খেয়ে এসব তিমির মৃত্যু হচ্ছে। বিষয়টি কঠোর ভাবে নিয়ে প্রকৃতির জন্য এসব তিমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
ইতেফাক/এসজেড
