এ বয়স ভুল করার বয়স

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:২০

টি নএজ হচ্ছে রাগ, জেদ আর অভিমানের বয়স। টিনএজ জীবনের প্রতিটি দিন আনন্দময় মনে হয়। চোখে-মুখে থাকে নানা স্বপ্ন। তবে এই সময়টা খুবই ভয়ঙ্করও বটে। এ বয়স খুবই স্পর্শকাতর। নিজেকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয় না প্রায়শই। ফলে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা তৈরি হতে পারে। এই সময় নিজেকে জানা, পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে খাপ খাওয়ানো খুবই কষ্টকর। এই সময়েই  কানে আসে নানা দিক থেকে  বিভিন্ন ধরনের কুমন্ত্রণা। এ সময়ে মন শুধু চাই চাই করে। তবে কি চাই। কি চাওয়া উচিত সেটা বুঝে ওঠা যায় না। একটু আশ্রয়, প্রিয়তমার প্রতি প্রেম নিবেদন, একটু আশার বাণী, একটু কোমল স্পর্শ। এসবই বেশি প্রত্যাশায় থাকে। এ বয়সটায় মনের অজান্তেই সবাই চায় কেউ একজন তার পাশে ছায়া হয়ে থাকুক। সামান্য একটু কোমল স্নেহের হাত যদি কেউ বাড়িয়ে দেয় এ বয়সটায়, আবেগে মন তখন বাধাহীন হয়ে পড়ে। কোনো বাধা-বিপত্তি তখন মানতে চায় না।

প্রকৃতপক্ষে প্রেমে পড়তে কোনো বয়স লাগে না। যে কোনো বয়সে, যেকোনো সময় মানুষ প্রেমে পড়তে পারে। তবে টিনএজ বয়সে প্রেমে পড়লে ভুল করার আশংকা একটু বেশিই থেকে যায়। কারণ অধিকাংশ মানুষের মধ্যে তখন আত্মসচেতনতা কম সৃষ্টি হয়। তাই নিজ ইচ্ছা-অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল করে থাকেন এ বয়সের ছেলে-মেয়েরা। এদিকে এসব ব্যাপার ভালোভাবে নেন না অভিভাবকরাও। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অভিভাবকদের বিষয়টি বিস্তারিত শুনে তারপর তার জন্য যা ভালো হয় সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এসব ব্যাপারগুলো নিয়ে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না। কথার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে হবে। এই বয়সী ছেলে-মেয়েরা অধিকাংশই একটা মোহের মধ্যে আবদ্ধ থাকে। বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে উঠে। সেই মোহটা কাটানোর চেষ্টা করা উচিত অভিভাবকদের। এসব বিষয়ের ক্ষতির দিকগুলো তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে। তাদের উপর সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। কারণ এ বয়স ভুল করার বয়স। তাদের আবেগকে অসম্মান না করে, গোপনে খোঁজ-খবর নেওয়া জরুরি। এই বয়সে প্রেমের একটা ঝুঁকি থাকে। অনেকে না বুঝে শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে সন্তানের সাথে খোলামেলা আলোচনা দরকার।

অল্পতেই মন খারাপ হয়, সামান্যতেই মাথা গরম হয়, এ বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। তাদের সময় দিন, সারাদিন কী করছে, কোথায় গেছে— এসব খবর রাখতে হবে। তাদের মতামতের প্রাধান্য দিতে হবে। তাদের কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন। সন্তানের অনেক বিষয় আপনার অপছন্দ হতেই পারে। অনেক কিছু ভালো নাও লাগতে পারে, কিন্তু তা নিয়ে তাদের উপর চড়াও হবেন না। আপনার কথাবার্তা, আচরণের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিন যে আপনি তার সঙ্গে আছেন। কারণ ভুল করা মানুষগুলো শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তাই হুট করে বাধা না দিয়ে খোলাখুলি কথা বলার চেষ্টা করুন। সন্তানের জীবনের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নিন। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারলে দেখবেন এ পর্বটাও মসৃণভাবে কেটে যাচ্ছে। আন্তরিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে তাদেরকে পরম স্নেহের আশ্রয়ে রেখে সব বিষয় সমাধান করতে হবে। তাহলেই আপনি হবেন আদর্শ অভিভাবক, আর আপনার সন্তান হবে আলোকিত মানুষ।

n লেখক :শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়