ডিম না ভেঙে খোসার পুরুত্ব নির্ণয়ের প্রযুক্তি

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩০

খোসাই হচ্ছে ডিমের গুণগত মানের পরিমাপক। ডিমের খোসা পরীক্ষা করেই নির্ণয় করা যাবে ডিমটির গুরুত্ব— এমন দাবি বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর। প্রকৃতির অন্যতম রহস্যময় জিনিস হলো ডিম। পক্ষীকুল ও সরীসৃপ প্রজাতির প্রাণীদের খাদ্য ও পুষ্টি ডিমের ভেতর সংরক্ষিত থাকে। আস্তে আস্তে এর উন্নতি হয় এবং নতুন প্রজাতি পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়। চিকিত্সা বিজ্ঞান গবেষণার জন্য মুরগীর ডিমকে আদর্শ ল্যবরেটরি উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। ডিম মূলত শক্ত বহিরাবরণ বা ডিমের খোসা, অ্যালবুমেন (সাদা অংশ), ডিমের কুসুম এবং কিছু মেমব্রেন দিয়ে তৈরি।

ডিমের খোসার মূল কাজ হলো এর অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা ভ্রূণকে এবং ভ্রূণের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকে রক্ষা করা। এটি সূর্যের আলো থেকে নির্গত আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকেও ভ্রূণকে রক্ষা করে। তবে খোসার কারণে ডিমের অভ্যন্তরের উপাদান নিয়ে কাজ করতে সমস্যা হয়। বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খালিদুজ্জামান এলিন ডিমের খোসার ওপর গবেষণা করে প্রথমবারের মতো বড় সাফল্য পেয়েছেন। তিনি ডিম না ভেঙে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েব টেকনোলজি ব্যবহার করে বিশ্বে প্রথমবারের মতো ডিমের খোসার পুরুত্ব নির্ণয় করেছেন। এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পূর্বে ডিম ভেঙে গবেষণা করতে হতো। এই গবেষণা জীববিজ্ঞান, বাস্তুসংস্থান এমনকি এগ গ্রেডিং এ বড় মাইলফলক বলে জানিয়েছেন গবেষক খালিদুজ্জামান। খালিদুজ্জামান এলিন জাপানের কিয়াতো বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইডি গবেষক হিসেবে বর্তমানে অধ্যয়নরত। তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি বিভাগের সহকারী প্রফেসর। খালিদুজ্জামান বলেন, ডিমের খোসা পুরু হলে পরিবহনের সুবিধাসহ পুরু খোসাসমৃদ্ধ ডিম থেকে স্বাস্থ্যবান বাচ্চা উত্পন্ন হয় বিধায় খামারি, কৃষক, ব্যবসায়ী পর্যায়ে এ গবেষণার ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।