উন্নত ও নির্ভরযোগ্য চিকিত্সার জন্য উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভরসার জায়গা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তৃতীয় ঢেউয়ে দেশে করোনার ডেল্টা ধরন ছড়াচ্ছে সারাদেশে। পূর্বের তুলনায় এই ধরনটা আরও বেশি শক্তিশালী। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমনের হার অনেক বেশি। বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজশাহীতে করোনা রোগী সময়ের সাথে বাড়ছে। শুধু শহরে নয়, করোনার ডেল্টা ধরন ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামেও। রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়েছে মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ শতাংশ মানুষকে। চিকিত্সকদের দাবি রাজশাহীতে যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে তাদের অধিকাংশ ভ্যাক্সিন নেয় নি। বর্তমানে রাজশাহীতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এটা বিভাগীয় শহর হওয়ার পরও এখানে কোন নির্দিষ্ট করোনা হাসপাতাল নেই। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চলছে করোনা রোগীদের চিকিত্সা। হাসপাতালটিতে একই প্রবেশপথ ও করিডোর দিয়ে ওয়ার্ডে নিতে হচ্ছে করোনা ও সাধারণ রোগীদের । ফলে হাসপাতালের ভেতরেই অন্য রোগের চিকিত্সা নিতে ভর্তি হয়ে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। গড়ে প্রতিদিন ২২ জন করে হাসপাতালের ভেতরেই সংক্রমিত হয়েছেন। যার মধ্যে আছে শিশু, নারীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিত্সা নিতে আসা সাধারণ রোগী এবং তাদের আত্মীয় স্বজনরা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখন করোনার হটসপটে পরিণত হয়েছে । যা কখনোই কাম্য নয়। শুধু তাই নয়, হাসপাতালে করোনা ডেডিকেটেড শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ একদিকে শয্যা সংখ্যা বাড়াচ্ছে রোগীদের জন্য, অপরদিকে প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন রোগীর সংখ্যা। অর্থাত্ সবসময় ধারণ ক্ষমতার বেশি রোগী থাকছে হাসপাতালে । যারা বেড পাচ্ছে না তারা মেঝেতে ও ওয়ার্ডের বারান্দায় চিকিত্সা নিচ্ছেন। প্রতিদিন করোনা রোগী বৃদ্ধির পাশাপাশি চরম সংক্রমণ ঝুঁকিতে সাধারণ রোগীসহ অন্যান্যরা। করোনার এই ঝুঁকি থেকে সাধারণ রোগীসহ অন্যান্যদের বাঁচাতে করোনা রোগীদের জন্য প্রয়োজন আলাদা হাসপাতাল। যেখানে শুধু করোনা রোগীদের চিকিত্সা করা হবে। ফলে রামেক হাসপাতাল থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণিত হবে এবং অন্যান্য রোগীরা নিজেদের চিকিত্সা নিতে কোন সমস্যায় পড়বে না।
মো. আরিফুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
