রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের দরপতন

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২১, ২১:৪৫

গোলাম মোস্তফা আনছারী, স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের দরপতনে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এদিকে রংপুরের আমচাষিরা এ পর্যন্ত ৪০ ভাগ আম গাছ থেকে আহরণ করেছেন বলে জানা গেছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আমের চালান যাওয়া কমে গেছে। এ কারণে স্থানীয় বাজারেও আমের দরপতন হচ্ছে। সোমবার বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আম পাইকারি বিক্রি চচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। এদিকে দেখা গেছে, আমের বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলছে বেচাকেনা। ফলে অনেকে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

রংপুর জেলার ছয়টি স্থানে বসছে হাঁড়িভাঙা আমের বাজার। মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ, বলদি পুকুর, নগরীর লালবাগ রেলগেট, টার্মিনাল, সিটিবাজার। এর মধ্যে পদাগঞ্জ বাজার হাঁড়িভাঙা আমের জন্য অন্যতম। পরিপক্ক হাঁড়িভাঙা আম ২০ জুন থেকে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এ মৌসুমে হাঁড়িভাঙা আমের বাম্পার ফলন হলেও দাম কম থাকায় ক্ষতির শঙ্কা করছেন চাষিরা। স্থানীয় বাজারে শ্রেণি ভেদে হাঁড়িভাঙা আম ৯০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। করোনা বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত ক্রেতা না এলে আমের বাজারে দরপতনের শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা।

বাজারে আম বিক্রেতা আফসার আলী, আবদুল কাদের বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের দর পতন হয়েছে। বিধিনিষেধর কারণে বিভিন্ন স্থানে আমের চালান কমে গেছে। ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় প্রায় ৬ হাজার ৯৭৯ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙাসহ অন্যান্য আম বাগান রয়েছে। এতে গাছের সংখ্যা রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫৭ হাজার। এর মধ্যে শুধুমাত্র রংপুর জেলার আট উপজেলায় হাঁড়িভাঙা আমের জমি রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ হেক্টর। জেলায় উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৮৩৫ মেট্রিক টন। হাঁড়িভাঙা আমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৯২৫ টন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওবাইদুর রহমান মন্ডল বলেন, আমচাষিরা এ পর্যন্ত ৪০ ভাগ আম গাছ থেকে আহরণ করেছেন। এ হাঁড়িভাঙ্গা আমের আড়ত মূলত ঢাকায়। করোনাকালীন ঢাকা থেকে দলে দলে মানুষ বাড়ি ফেরার কারণে সেখানে প্রায় ক্রেতাশূন্য। তাই ঢাকায় আমের চালান যাওয়া কমে গেছে। এ কারণে স্থানীয় বাজারে আমের দরের পতন হচ্ছে।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় বলেন, ‘করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমের বাজার পরিচলনা না করলে আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব।’