পানি কমে যাওয়ায় কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধি বিঘ্নিত

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২১, ২১:৪৬

কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে সবচেয়ে বেশি মাছ উত্পন্ন হয়। কিন্তু বর্তমানে পার্বত্যাঞ্চলে বৃষ্টি না হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদের পানি দিনদিন কমে যাচ্ছে। হ্রদে পানি কম থাকায় স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী মাছের প্রজনন হচ্ছে না, আর আকারও বাড়ছে না। এ অবস্থায় কাপ্তাই হ্রদে কাঙ্ক্ষিত মাছের উত্পাদন না হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কাপ্তাই হ্রদ থেকে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। এ হ্রদে মাছের প্রজনন ও আকার বৃদ্ধির সুবিধার্থে প্রতি বছর ১ মে থেকে তিন মাস এই হ্রদে সব প্রকার মাছ ধরা বন্ধ থাকে। সরকারি আইন অনুযায়ী বর্তমানে এ হ্রদে মাছ ধরা, বিক্রি ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ রয়েছে। মে, জুন ও জুলাই মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়। সেই বৃষ্টির পানিতে হ্রদ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর এ সময়টি মাছের প্রজনন সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রজননের পাশাপাশি মাছের পোনার গড়ন বৃদ্ধিতেও বৃষ্টির পানি সহায়ক হয়। কিন্তু বর্তমানে পার্বত্যাঞ্চলে বৃষ্টি না হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদের পানি দিনদিন কমে যাচ্ছে। হ্রদে পানি কম থাকায় স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী মাছের প্রজনন যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি আকারও বাড়ছে না।

কাপ্তাই হ্রদের তালিকাভুক্ত জেলে হিমেন্দ্র জলদাশ বলেন, মাছের বংশ বৃদ্ধি ও আকার বাড়ার সুবিধার্থে মে মাসের শুরু থেকে এ হ্রদে সব প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এ সময়ে আমরা আইন মেনে হ্রদে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকি। কিন্তু এবার বৃষ্টি না হওয়ায় মা-মাছ প্রজনন করতে পারছে না। যার ফলে মাছের বংশ বৃদ্ধিও হচ্ছে না। এ রকম পরিস্থিতি ভয়ানক উল্লেখ করে তিনি বলেন, হ্রদে কাঙ্ক্ষিত মাছ না থাকলে কয়েক হাজার জেলে যারা শুধু কাপ্তাই লেকের মাছ ধরে জীবিকানির্বাহ করেন তারা চরম সংকটে পড়বেন।

বাংলাদেশ মত্স্য উন্নয়ন করপোরেশন কাপ্তাই সাব ইউনিটের ইউনিট চিফ ও মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলম হ্রদে পানি কম থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, অন্যান্য বছর জুন মাসে কাপ্তাই হ্রদের পানি ছেড়ে দিতে হতো। কিন্তু এবার পানিই নেই। তিনি বলেন, কর্ণফুলী জলবিদ্যুত্ কেন্দ্রের পানির পরিমাপ অনুযায়ী কাপ্তাই হ্রদে এ মুহূর্তে ৯০ ফুট এম এস এল (মীন সী লেভেল) পানি থাকার কথা। কিন্তু লেকে পানি রয়েছে মাত্র ৭৩ ফুট এম এস এল। অর্থাত্ প্রয়োজনের তুলনায় হ্রদে বর্তমানে ১৭ ফুট পানি কম রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কাপ্তাই হ্রদ থেকে চলতি বছর কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ আহরণ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার ফলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা দেওয়া যাবে কি না এই নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহদাত্ হোসেন বলেন, কাপ্তাই হ্রদের মাছের বিকিকিনির ওপর কয়েক হাজার পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্ভর করছে। কিন্তু প্রকৃতির বিরূপ আচরণের ফলে হাজার হাজার পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছেন। মুষল ধারে টানা বৃষ্টিই একমাত্র মানুষের হতাশা দূর করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।