ল্যাব টেকনিশিয়ানের অভাব
ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
করোনা মহামারি সংক্রমণে যখন দিশেহারা মানুষ ঠিক তখনই ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত নমুনা দিতে পারছেন না আগত রোগীরা। ফলে পিরোজপুর জেলার মধ্যে শুধু ইন্দুরকানী উপজেলার করোনার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। এ উপজেলায় সংক্রমণের হার কেমন বা কত ভাগ তারও তেমন কোনো পরিসংখ্যান নেই। অথচ ইন্দুরকানীর প্রায় প্রতিটি ঘরেই এখন জ্বর, সর্দি, কাশি লেগেই আছে। অর্ধশতাধিক রোগী প্রতিনিয়ত হাসপাতালের বহির্বিভাগে ভিড় করছেন। যার মধ্যে অধিকাংশ রোগীর করোনা উপসর্গ রয়েছে। কিন্তু শুধু ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় করোনার নমুনা সংগ্রহ করা যাচ্ছে না বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে।
এর মাঝে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার তৈয়বুর রহমান সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করেন। এছাড়া বাকি সময় তিনি থাকেন ভোলা সদরে। হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গ চালু না থাকলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্যত্র প্রেষণে কর্মরত রয়েছেন। ১৪ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র চার জন।
এছাড়া সুপেয় পানির অভাবে ১৩ বছরেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিত্সাব্যবস্থা চালু করতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। ফলে প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। বাধ্য হয়ে এ উপজেলার রোগীদের বরিশাল, খুলনাসহ দূরদূরান্তে গিয়ে চিকিত্সাসেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মো. আমিন উল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় করোনার নমুনা সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন আউটডোরে অর্ধশতাধিক রোগীকে চিকিত্সা প্রদান করা হচ্ছে। যাদের অধিকাংশই করোনা উপসর্গ নিয়ে আসেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার তৈয়বুর রহমান পারিবারিক সমস্যার কারণে নিয়মিত অফিস করতে পারেন না বলে জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত করোনা ভাইরাস শনাক্তের জন্য অ্যান্টিজেন র্যাপিড টেস্টের কিট সরবরাহ করতে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ইন্দুরকানীর জনসাধারণ।
