চট্টগ্রামে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া টাকা হতে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ কেটে রাখা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। গতকাল রবিবার চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ঝটিকা পরিদর্শনকালে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর কাছে এ অভিযোগ জানানো হয়। পরিদর্শনের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের ভূমিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সরাসরি চেক দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তা দালালদের হাতে কিভাবে যাচ্ছে সেটা বুঝতে পারছি না। এজন্য ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) পদ্ধতি চালুর চিন্তা করছি। মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। আমরা নিজেরাও চাই জনগণ যাতে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হয়। হয়রানি ও দুর্নীতি এখানে থাকতে পারবে না।
পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী অধিগ্রহণ শাখায় আসা সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে দুর্নীতি ও হয়রানির বিভিন্ন অভিযোগ শোনেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন ও ভূমি অধিগ্রহণ শাখার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশিদকে নির্দেশনা দেন।
অধিগ্রহণ শাখায় দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক মন্ত্রীকে জানান, জেলা প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে একটা দালাল চক্র সক্রিয় আছে। দালালরা খুবই প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় দেখেছি, আমি নিজে বাড়িতে গিয়ে ক্ষতিপূরণের চেক হাতে তুলে দিয়ে এসেছি। সেই চেক দেখি আবার দালালের হাতে চলে গেছে। জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের অফিসের কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে বদলি করে দিচ্ছি। চক্রটাকে ধরার চেষ্টা করছি। আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনকেও বলেছি।
