প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার (সিপিসি) শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে চীনের জনগণ, দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সিপিসির মহাসচিব শি জিনপিংকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পারস্পরিক স্বার্থে আওয়ামী লীগ ও সিপিসির মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতা কামনা করেছেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ ও জাতীয় মৌলিক স্বার্থের ভিত্তিতে চমত্কার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। বাংলাদেশ তার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে চীনকে একটি বিশ্বস্ত অংশীদার বলে মনে করে।’
আওয়ামী লীগকে ভ্যাকসিন ও চিকিত্সা সরঞ্জামাদি উপহার দেওয়াসহ কোভিড-১৯-এর এই বৈশ্বিক মহামারিকালে চীন বাংলাদেশকে যে সহযোগিতা ও সহায়তা দিয়েছে তার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন নতুন পথ খুঁজছি। পাশাপাশি, আমরা শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের মতো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু নিয়েও কাজ করছি।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালের চীন সফরের বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের একজন তরুণ নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু তত্কালীন সিপিসি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময়ের আরো সুযোগ করে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তার বই ‘আমার দেখা নয়াচীন’-১৯৫২ তে সিপিসির নেতৃত্বে চীনকে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের জনগণের প্রবল উদ্যম, কঠোর প্রত্যয় ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোভাবের প্রশংসা করেন।
শেখ হাসিনা তার অভিনন্দন বার্তায় বলেন, সুবিবেচনাপূর্ণ রাজনীতি ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না সবার জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দেশটিকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করেছে। মাত্র অল্প কয়েক দশকের মধ্যেই চীন আশ্চর্যজনক ও উত্সাহ-ব্যঞ্জক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি লাভ করেছে। আজ বিশ্বমানের পণ্য ও সেবা প্রদান করছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার নির্দেশনায় চীনের বন্ধু-প্রতিম জনগণের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করেন।
লিঙ্গ সমতার জন্য সম্মিলিত
পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর
গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৯৫ সালে বেইজিংয়ে নারীদের নিয়ে চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা এখনো পূরণ হয়নি। এখনো নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা ২৫ শতাংশ এবং কর্মশক্তি হিসেবে নারীর অংশগ্রহণ ৩১ শতাংশেরও কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাহসী নীতিগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে আমাদের অবশ্যই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৫ সালে বেইজিংয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সাহসী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে এসব প্রতিশ্রুতির অনেকগুলোই অসম্পূর্ণ থেকে গেছে।’ শেখ হাসিনা গতকাল জেনারেশন ইক্যুয়ালিটি ফোরাম ২০২১, প্যারিস আয়োজিত ‘লিঙ্গ সমতার জন্য প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন’ শীর্ষক অ্যাকশন কোয়ালিশনে প্রদত্ত পূর্বে ধারণকৃত ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং শ্রম ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ উত্সাহব্যঞ্জক নয়। আজ পর্যন্ত মাত্র ২৫ শতাংশ সংসদ সদস্য নারী, যদিও শ্রম ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষদের তুলনায় এখনো ৩১ শতাংশ কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাহসী নীতিগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে আমাদের অবশ্যই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প কার্যত নারীদের তথ্য প্রযুক্তি খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক।’ তিনি বলেন, তার সরকার আইটি পেশাদার এবং দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যবহারিক প্রকল্প চালু করেছে। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশে বিভিন্ন ডিজিটাল সফটওয়্যার ব্যবহূত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাইবার প্ল্যাটফরমগুলোতে নারীদের বর্ধিত সুরক্ষার দিকে পরিচালিত করতে গত তিন বছরে ৭১ হাজার নারীকে সাইবার সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বেইজিং সম্মেলনের ২৫তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এর পূর্বের প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এই সময় আইসিটি ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ প্রযুক্তিগত স্টার্ট-আপস এবং ই-বাণিজ্য খাতকে ২০২৬ সাল নাগাদ ২৫ শতাংশে উন্নীত করার এবং ২০৪১ সাল নাগাদ ৫০ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রজন্মের সমতা (জেনারেশন ইক্যুয়ালিটি) ফোরামটি ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত দুটি ইভেন্ট জুড়ে চলছে যা মেক্সিকো সিটিতে শুরু হয়েছিল এবং প্যারিসে শেষ হবে। জেনারেশন ইক্যুয়ালিটি ফোরাম লিঙ্গ সমতার জন্য ইউএন উইমেন-এর আহ্বানে মেক্সিকো এবং ফ্রান্স সরকারের যৌথভাবে আয়োজিত একটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলন।
ফোরাম সরকার, কর্পোরেশন, এনজিও, যুব-নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং সংস্থাকে একত্রিত করে লিঙ্গ সমতার জন্য সুনির্দিষ্ট, উচ্চাভিলাষী এবং রূপান্তরকৃত প্রতিশ্রুতি সুরক্ষিত করে। এগুলো অ্যাকশন কোয়ালিশনের তৈরি লিঙ্গ সমতার জন্য বিশ্বের রোডম্যাপ।
