খুলনা মেডিক্যাল কলেজের (খুমেক) আরটি পিসিআর ল্যাব ‘দূষিত’ হওয়ায় বন্ধ রয়েছে করোনার নমুনা পরীক্ষা। চালু হওয়ার ১৫ মাসের মাথায় প্রথম বারের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের জন্য বন্ধ থাকবে এই ল্যাব। তবে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও খুলনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে থাকা রোগীদের মধ্যে যাদের নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন হবে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে।
বুধবার নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ার পর কর্তৃপক্ষ গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ল্যাবটির কার্যক্রম বন্ধ করে দূষণমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা প্রতিরোধ ও চিকিত্সা ব্যবস্থাপনাবিষয়ক কমিটির সভাপতি এবং খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী নেওয়াজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ল্যাবটি বন্ধ থাকলেও আগে থেকে মজুত থাকা প্রায় ২ হাজার নমুনা ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। বৃহস্পতিবার থেকে যেসব নমুনা সংগ্রহ করা হবে সেগুলোও এ ল্যাবে তিন দিনে পরীক্ষার সুযোগ থাকবে না।
ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, খুবিতে এক দিনে মাত্র ৯৪টি নমুনা পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাব থেকে কিট, রি-এজেন্ট নিয়ে এখানকার জনবল গিয়েই খুবির ল্যাব থেকে শুধু পরীক্ষাগুলো করিয়ে আনবে। তা না হলে রোগীর ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না। তাছাড়া করোনা হাসপাতাল থেকে রোগী ছাড়া না গেলে নতুন করে ভর্তিও করা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা স্বাভাবিক রাখতে হলে প্রতি মাসে অন্তত একবার করে দূষণমুক্ত করা উচিত। কিন্তু খুমেকের পিসিআর ল্যাবটি গত বছর ৭ এপ্রিল থেকে চালুর পর কখনোই এমনটি করা হয়নি। কেননা একবার দূষণমুক্ত করতে হলে অন্তত দুই দিন ল্যাব বন্ধ রাখতে হয়। এমনিতেই এ ল্যাবে প্রচুর চাপ ছিল। যে কারণে মাসে দুই দিন বন্ধ রাখা অসম্ভব ছিল। কিন্তু গত বুধবার ৫৫০টি নমুনা পরীক্ষার সময় দেখা যায়, সবগুলোই পজিটিভ। এরপর পরীক্ষানিরীক্ষা করে ল্যাবটি দূষিত হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়।
বুধবার যেসব নমুনার পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া সম্ভব হয়নি সেগুলোর জন্য আর নতুন করে নমুনা নেওয়ার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, তাদের নমুনা যেহেতু রেখে দেওয়া হয়েছিল সেহেতু পরবর্তীতে হয়তো ঢাকা থেকে অথবা খুলনার ল্যাবটি পুনরায় চালু হলে পরীক্ষা করা হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী শনিবার অথবা রবিবার ল্যাবটি পুনরায় চালু হবে।
এদিকে, খুমেকের পিসিআর ল্যাব বন্ধ থাকলেও খুলনাসহ জেলার অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা যথারীতি চালু থাকবে বলে জানান খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ।
