সেন্ট্রাল অক্সিজেন বিপর্যয়ে সাতক্ষীরা করোনা ডেডিকেটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাত রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় পর এসব রোগীর মৃত্যু হয়। অক্সিজেন সংকটে মারা যাওয়া রোগীদের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চার জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে বলেছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। এই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
বুধবার রাত ৮টায় সরেজমিনে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার বাতাস। আইসিইউ ওয়ার্ডের সামনে রোগীর স্বজনদের হুড়োহুড়ি এবং কান্নার রোল পড়ে যায়। মারা যাওয়া সাত রোগী হলেন—আইসিইউ ইউনিটে চিকিত্সাধীন আকরাম হোসেন খান (৬৩), সিসিইউ ইউনিটে চিকিত্সাধীন খাইরুন্নেছা (৪০), করোনা আক্রান্ত নাজমা খাতুন, আশরাফ হোসেন, সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন রবিউল ইসলাম পারভেজ (৫৪), আবু জাফর মো. শফিউল আলম তুহিন ও আব্দুল হামিদ (৭৫)।
আইসিইউ ইউনিটে মারা যাওয়া আকরাম হোসেনের ছেলে তাজ মুহাম্মদ খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কয়েক দিন ধরে বাবা শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে এই হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেদিকে নজর দেয়নি। সে কারণে আজ কয়েক জন মারা গেলেন। কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আমার বাবাকে হারালাম। তিনি আরো বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে অক্সিজেন ছিল না। রাত ৮টায় অক্সিজেন আসে। এই সময়ে এই রোগীগুলো কীভাবে বাঁচবে সেটি আগে থেকে ভেবে দেখা দরকার ছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন হুসাইন ডা. শাফায়ত বলেন, সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সংকট দেখা দেওয়ার কথা ছিল না। সেন্ট্রাল অক্সিজেন ছাড়াও ৭০টির অধিক সিলিন্ডার আছে। তবে করোনায় চার জন মারা গেছে। এখানে কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়টি তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. কাজী আরিফ আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ করোনার নানা উপসর্গ নিয়ে জেলায় আরো সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় ৩০ জুন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ৭৪ জন। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৩৫০ জন।
এদিকে সাতক্ষীরায় ফের বেড়েছে সংক্রমণের হার। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরো ৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় সামেক হাসপাতালের আরটি পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১০৬ জনের। শনাক্তের হার ৪৯ দশমিক ০৫ শতাংশ।
