চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এখন গ্রামেও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। ফলে এখানকার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। বেসরকারি হাসপাতালে বেড খালি নেই। উপজেলা হাসপাতালগুলোতেও প্রচুর রোগী ভর্তি আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৫৫২ জন নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন পাঁচ জন। সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, আক্রান্তদের মধ্যে ৯০ শতাংশ রোগী বাসা থেকে চিকিত্সা নিচ্ছেন। জটিল হয়ে পড়লে হাসপাতালে আসছে। বর্তমানে জেলা-উপজেলায় সরকারি হাসপাতালে ২৪৫ জন ও প্রাইভেট হাসপাতালে ৩৬৫ জন করোনা রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছেন। এদিকে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) এক গবেষণায় করোনার টিকা না নেওয়া রোগীরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে উঠে এসেছে। চিকিত্সকরা জানান, অধিকাংশ করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর হাসপাতালে আসছেন না। যখন শ্বাসকষ্ট ও কাঁশি বেড়ে যাচ্ছে তখনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এতে অধিকাংশ রোগীর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ছে। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির ইত্তেফাককে বলেন, আক্রান্তদের অল্প সময়ের মধ্যে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি, আমাদের ৩০০ বেডের মধ্যে অর্ধেক খালি রয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি ইত্তেফাককে বলেন, এখন উপজেলায় বেশি করোনা ছড়াচ্ছে। উপজেলা সদর হাসপাতালগুলোতে প্রচুর রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছে। খুলশীতে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে করোনা চিকিত্সার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আমরা চাহিদার কথা চিন্তা করে আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।
এদিকে চট্টগ্রামে বিভিন্ন হাসপাতালে জটিল করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য বসানো হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানোলা নষ্ট হয়ে পড়েছে। এতে শ্বাসকষ্টজনিত ও অক্সিজেন লেবেল নিচে নেমে যাওয়া করোনা রোগীদের চিকিত্সা হুমকির মুখে পড়েছে। চমেক হাসপাতালে ৬০টি হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানোলার মধ্যে ২৫টি নষ্ট হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৩০টির মধ্যে ১৫টি, ফৌজদার হাট বিআইটিআইডিতে আটটির মধ্যে দুইটি এবং বেসরকারি মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ৫০টির মধ্যে ১৪টি নষ্ট।
অন্যদিকে সিভাসুর গবেষণায় করোনার টিকা না নেওয়া রোগীরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে উঠে এসেছে। আবার ১ম ও ২য় ডোজ টিকা গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে খুবই কম সংখ্যককে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। চাঁদপুরে কোভিড পজিটিভ ব্যক্তিদের মধ্যে কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে ১ হাজার ৯৫ জনের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য ও উপাত্ত সম্পূর্ণরূপে পর্যবেক্ষণ করে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। করোনায় আক্রান্ত এসব রোগীদের মধ্যে ৯৬৮ জন টিকা গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে ৬৩ জন বিভিন্ন সময়ে অক্সফোর্ট-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ডের শুধু ১ম ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ৬৪ জন ১ম ও ২য় উভয় ডোজ টিকাই গ্রহণ করেছিলেন। গবেষণায় পাওয়া যায়, সংগৃহীত সমস্ত নমুনার মধ্যে ১ম ও ২য় ডোজ টিকা গ্রহণকারীদের কোভিড আক্রান্তের হার মোট নমুনা পরীক্ষার যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৪৮ ও শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ ।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, টিকা না নেওয়া রোগীদের মধ্যে ১৩৭ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। যেখানে ১ম ও ২য় ডোজ টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে যথাক্রমে সাত ও তিন জন রোগীকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তিকৃত টিকা গ্রহণকারী রোগীদের ৮৩ জনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট পরিলক্ষিত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৯ জনের অতিরিক্ত অক্সিজেন সাপোর্টের প্রয়োজন হয়েছে। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রা সর্বনিম্ন ৭০ শতাংশ পরিলক্ষিত হয়।
