এমন কেউ আসছে না, যাকে সবাই গ্রহণ করবে। কী যেন নেই তাদের মাঝে। তাই তারা নিজেদের তৈরি করতে পারছে না। পাশাপাশি যারা আমরা তৈরি করবো তাদেরও কোথাও একটু ঘাটতি রয়েছে।
বিনোদন প্রতিবেদক
‘অন্যদের কথা তো বলতে পারবো না। কারণ কে কীভাবে নির্মাণ করবে সেটা তার ইচ্ছে। তবে দায়সারাভাবে নির্মাণ আমি করবো না। সরকারের একটি টাকাও যাতে অন্যায়ভাবে খরচ না হয় সেই চেষ্টা থাকবে। এর আগে নাটক নির্মাণ করে সফল হয়েছি। আশা করছি এখানেও সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারবো।’—সরকারি অনুদানের ছবিগুলো দায়সারাভাবে নির্মাণ প্রসঙ্গে কথাগুলো বললেন গুণী অভিনেত্রী ও নির্মাতা অরুণা বিশ্বাস। এবার করোনার কারণে রেকর্ডসংখ্যক ছবিকে সরকারি অনুদান প্রদান করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে অরুণা বিশ্বাসের ‘অসম্ভব’ শিরোনামের একটি ছবি। বর্তমানে ছবিটি নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। নিজের নতুন ছবি ও ব্যস্ততা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নতুন ছবির অসম্ভব ও নাটক রঙিন সুতোর জীবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। ছবিটির স্ক্রিপ্টটি অনেক আগে করা ছিল। তাই স্ক্রিপ্টটি আরো একটু আপডেট করার কাজ করছি। সামাজিক, পারিবারিক ও সংস্কৃতিকে নিয়ে ছবিটি নির্মিত হবে। পাশাপাশি অনিমেষ আইচের একটি নাটকে কাজ করছি।’
অভিনয় ও নির্মাণ ব্যস্ততার পাশাপাশি অরুণা বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। প্রতিনিয়তই অনেক মানহীন চলচ্চিত্র সেন্সর পেয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রদর্শিত হচ্ছে। চলচ্চিত্র সংকটের জন্য এই মানহীন কাজগুলোকে বরাবরই দায়ী করা হয়। তবু সেন্সর বোর্ডকে এই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হতে দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আরো একটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন কি-না!-এমন প্রশ্নে অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে আমরা নানা সময় আলোচনা করি। যদি দেশের প্রতি শ্রদ্ধা-দায়বদ্ধতা না থাকে তবে যেকোনো ধরনের কাজই করা যায়। এমন কাজ অনেক হয়, যেগুলোকে ছাড়পত্র দেবো কী দেবো না সেটা নিয়ে চিন্তা করি। কিন্তু রাষ্ট্রীয় বা অন্যান্য বিরোধী কোনোকিছু ছবিটিতে না থাকায় নিয়ম অনুযায়ী আটকে দেওয়ার জায়গা থাকে না। বাধ্য হয়ে মানহীন কাজটিকে ছেড়ে দিতে হয়।’
অন্যদিকে চলচ্চিত্র দিনদিন মেধাশূন্য হচ্ছে বলেও অনেকে বলছেন। কারণ হিসেবে সিনিয়র শিল্পী-কলাকুশলীদের অবমূল্যায়নকে শীর্ষে রাখা হচ্ছে। অনেক সিনিয়র শিল্পী কাজের অভাবে নিজেকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে আড়াল করে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘এই চর্চা অবশ্যই চলচ্চিত্রকে আরো মেধাশূন্য করছে। কারণ আমরা যখন রাজ্জাক কাকু, আলমগীর ভাই, সাবানা আপুসহ অন্যান্য সিনিয়রদের সঙ্গে কাজ করেছি তখন তাদের কাছ থেকে অনেককিছু শিখেছি। যা পরবর্তীতে কাজে এসেছে। কিন্তু এখন কেন সিনিয়রদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে সেটা জানি না। যারা এই অবমূল্যায়ন করছে তারা হয়তো ভুলে গেছে এক সময় তারাও সিনিয়র হবে!’ এছাড়া নতুন স্টার তৈরি না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘এমন কেউ আসছে না, যাকে সবাই গ্রহণ করবে। কী যেন নেই তাদের মাঝে। তাই তারা নিজেদের তৈরি করতে পারছে না। পাশাপাশি যারা আমরা তৈরি করবো তাদেরও কোথাও একটু ঘাটতি রয়েছে। গল্প, নির্মাণ, অভিনয়ের দুর্বলতা শুধু স্টার তৈরি নয়, চলচ্চিত্রের সংকটও আরো প্রকট করছে।’
চলচ্চিত্রের এই সংকট করোনার কারণে আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। সিনেমা হল বন্ধ থাকায় গত তিন ঈদ নতুন ছবি ছাড়া কেটেছে। সামনের ঈদেও ছবি মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। এরইমাঝে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন মাধ্যম ওটিটি যুক্ত হওয়ায় আদৌ হলে ছবি গড়াবে কি-না সেই সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তবে অরুণা বিশ্বাস মনে করেন, নতুন মাধ্যম ওটিটি অবশ্যই আমাদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে, যদি সেখানে কোনো সিন্ডিকেট না করে মানসম্পন্ন কাজ রিলিজ দেওয়া যায়। এতে হলের প্রতিও দর্শক আগ্রহ তৈরি হবে।
