দুই আসামির সাজা কমে যাবজ্জীবন

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২১, ২২:০৬

কনডেম সেলে ১৫ বছর

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে এক হত্যাকাণ্ডের মামলায় ফাঁসির দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে দুই আসামিকে। এরা হলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এনামুল কবির রিমন ও মো. বিল্লাল। হত্যাকাণ্ডের সময় তাদের বয়স ছিল ২২ বছর। ১৬ বছর ধরে আছেন কারাগারে। এর মধ্যে ১৫ বছরই কনডেম সেলে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বুধবার আসামিদের আপিল খারিজ করে এ রায় দেন। একই সঙ্গে তাদের কনডেম সেল থেকে সাধারণ সেলে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(ক) ধারার সব সুবিধা পাবেন।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই দুই আসামিকে আরো ছয়/সাত বছর কারাভোগ করতে হবে। বাংলাদেশে যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছর সাজা। তবে একজন আসামি রেয়াত সুবিধাসহ সব সুবিধা প্রাপ্য হলে তাকে সাড়ে ২২ বছর কারাগারে থাকতে হয়।

২০০৫ সালের ৫ আগস্ট জহিরুল ইসলাম খান সোহেলকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ২০০৬ সালে ঢাকার একটি আদালত রিমন, বিল্লাল, স্বপন ও আবুল হোসেন ওরফে ফোকলা বাবুকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে ঐ মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়। ২০১৩ সালে হাইকোর্ট এক রায়ে রিমন, বিল্লাল ও স্বপনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। আর ফোকলা বাবুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেন কারাবন্দি আসামিরা। আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী মো. আব্দুর রহমান হাওলাদার ও রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. মোরসেদ শুনানি করেন। শুনানিতে আসামি পক্ষের আইনজীবী আদালতে মৃত্যুদণ্ড থেকে সাজা হ্রাসের আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ফাঁসি বহালের আর্জি জানায়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ দুই আসামির সাজা হ্রাস করে দেয়। অন্য আসামি মো. স্বপন ওরফে কালা স্বপনকে খালাস দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকলে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।