রাজারহাটে তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি কৃষিজমি বিলীন

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২১, ২২:০৯

দুর্ভোগে নদী তীরবর্তীরা

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী-১ মাহমুদ হাসান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে জানান, তিস্তা নদীর গোকুণ্ডা এলাকা থেকে খিতাব খাঁ, বড়দরগা, বুড়িরহাট হয়ে থেতরাই পর্যন্ত এলাকাগুলোর ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

রাজারহাটে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন নদী তীরবর্তী মানুষ। উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তা নদী পাড়ের প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবারের ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাব খাঁ, বড়দরগা, বুড়িড়হাটসহ আরো কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি, বাগান, পুকুরসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর আহাজারি। বড়দরগা ও বুড়িরহাট এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুস ছাত্তার (৭০) কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘তিস্তা আমাদের সব শেষ করেদিল বাহে, আজ দেখা ছাড়া হামার করার কিছুই নাই। ছেলে বয়স থেকে কয়েকবার বাড়ি ঘর নিয়ে ১৯৭৪ সালে এই জায়গায় বাড়ি করছি। এতদিন পরে এই বাড়ি আবার ভাঙতেছে, হামরা এখন কোথায় যাই।’ হায়দার আলী (৪৫), আশরাফুল (৩৪), আাাাছির উদ্দিন (৫৫), আবুল হোসেন (৬০), রফিকুল (৩০), ছামাদ (৭০) বলেন, চোখের সামনে হামার শেষ সম্বলটুকু নদীতে গেল, হামার কষ্ট দেখার কেউ নাই, হামার করারও কিছু নাই। এখন কারো কাছে একটু জায়গা নিয়া থাকা লাগবে। ভাঙনে এলাকায় দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুইটি মসজিদ, বুড়িরহাট বাজারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙনের মুখে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়সারা দায়িত্ব পালনে প্রতিবছর এই এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়।

সোমবার কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী-১ মাহমুদ হাসান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে এই প্রতিবেদককে জানান, তিস্তা নদীর গোকুণ্ডা এলাকা থেকে খিতাব খাঁ, বড়দরগা, বুড়িরহাট হয়ে থেতরাই পর্যন্ত এলাকাগুলোর ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হবে। এতে তিস্তা পাড়ের লোকজন উপকৃত হবেন।