চকরিয়ায় পাহাড়ে ধসের শঙ্কা

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২১, ২২:৩৬

এম এইচ আরমান চৌধুরী, চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

চকরিয়ায় পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করছে অন্তত ১০ হাজার পরিবার। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভারী বর্ষণে মাটি নরম হয়ে একাধিক স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি এলাকায় যে কোনো মুহূর্তে ধসে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলেও দাবি করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। গত ১ জুলাই ভোরে চকরিয়া উপজেলার হারবাং মইস্যার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে রাবেয়া খাতুন (৫০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত রাবেয়া খাতুন পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বকশির ঘোনা এলাকার ফিরোজ আহমদের স্ত্রী। তারা প্রায় এক যুগ আগে পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী থেকে চকরিয়া উপজেলার হারবাং মইস্যার ঘোনা এলাকায় এসে সপরিবারে বসবাস করতে শুরু করে।

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছন্যাকাটা, বানিয়ারছয়া, মাহমুদনগর, পাহাড়তলি, ভিলেজারপাড়া, হারবাং ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া, শান্তিনগর, মইস্যার ঘোনা, ফইজ্যার ডেবা, লম্বা ঘোনা, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ইসলামনগর, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের উত্তর মানিকপুর, খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া, নয়াপাড়া, কাকারা ইউনিয়নের বার আউলিয়া নগর, শাহ ওমরনগর, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া, ছগিরশাহ কাটা, ছায়েরাখালী, ডুলাহাজারা ও বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় অন্তত ১০ হাজার পরিবার চরম ঝুঁকিতে বসবাস করছে। প্রায় দুই যুগ ধরে এসব পরিবার পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছেন বলে দাবি করেন জনপ্রতিনিধিরা।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে ৩ হাজার ৩৪৫টি ও ফুলছড়ি রেঞ্জে ৩ হাজার ৪৭১টি পরিবারসহ বন বিভাগের ছয়টি রেঞ্জে অন্তত ১২ হাজার পরিবার বসবাস করছে। তবে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে অন্তত ২ হাজার পরিবার। পাহাড় ধসের ঝুঁকি থেকে এসব পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে প্রশাসন উদ্যোগ নিলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।’ এদিকে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের চুনতি রেঞ্জের আওতাধীন হারবাং ও বরইতলী এলাকায় আরো ১ হাজার পরিবারের ৩ হাজার মানুষ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাহাড়ের ঢালুতে বসবাস করছে। চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক বলেন, ‘পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বেশির ভাগ লোক দরিদ্র শ্রেণির। এরা অভাব-অনটনে জর্জরিত হয়ে ও নদীভাঙনের শিকার হয়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করছে।’ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম চকরিয়া উপজেলা সভাপতি এম আর মাহমুদ বলেন, ‘গেল দুই বছরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিপুল পাহাড় কাটা হয়েছে। এই অবস্থায় লাগাতার ভারী বর্ষণে কাটা পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যায়। এতে এক সময় পাহাড় ধসে পড়ে।’ তিনি বলেন, ‘এখন বর্ষা মৌসুম। তাই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এই অবস্থায় পাহাড়ে বসবাসরত জনগণকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পাহাড় নিধনকারীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘উপজেলার যেসব ইউনিয়নগুলোতে পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে মানুষ বসবাস করছে, তাদেরকে স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। এর পরেও যেসব এলাকা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তা শনাক্ত করে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘একই সঙ্গে যারা পাহাড় নিধন করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’