সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। সেখানে অর্জিত হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছাড়িয়ে গেলেও বিনিয়োগ, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, প্রবাসী আয়, রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয়, দক্ষ শ্রমিকের বিদেশ যাত্রাসহ অনেক সূচকেই এ সময়ে লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
রবিবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্যবর্তী মূল্যায়ন বিষয়ে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় অংশ নেন এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আসিফ-উজ-জামানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে ড. শামসুল আলম জানান, পরিকল্পনাটি ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যবর্তী মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, সেখানে অর্জন হয়েছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। বিনিয়োগ লক্ষ্য ছিল মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ। এ লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৭ দশমিক ৪ শতাংশ লক্ষ্যের বিপরীতে অর্জিত হয়েছে অনেক বেশি। তবে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ লক্ষ্য ছিল ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এটি এখনো অর্জিত হয়নি। তবে অর্জনের পথে রয়েছে। কাঙ্খিত হারে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়নি বলে জানান ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে আড়াই লাখ কর্মসংস্থান হয়। তবে এ হারে এখন আর হচ্ছে না। বিদেশি কর্মসংস্থানও বাড়ছে না প্রত্যাশিত হারে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাংলাদেশে অতি ধনী বাড়ছে। এটাকে অতি ধনী না বলে বলা যায় সম্পদ বাড়ছে। সম্পদ বাড়লে সরকার তার সুরক্ষা দেবে। দারিদ্র্য নিরসন এক নম্বর আলোচনায় থাকবে। আর আঞ্চলিক বৈষম্য আমাদের অদৃষ্টের পরিহাস। যে আঞ্চলিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করলাম। সেই বৈষম্য দেশের ভিতরেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনতে হবে। বিশেষ করে পুরনো আইনগুলো সংস্কার করতে হবে।
ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এক শতাংশ প্রবৃদ্ধির জন্য যে পরিমাণ বিনিয়োগ হওয়ার কথা, যে পরিমাণ কর্মসংস্থান ও যে পরিমাণ দারিদ্র্য নিরসনের কথা সেটা হচ্ছে না গত কয়েক বছর ধরে। সেটি কি জন্য হচ্ছে না তার কারণ অনুসন্ধান করা দরকার। শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে এখনো ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেশি। এ বিষয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা দরকার।
