ইত্তেফাক রিপোর্ট
চলে গেলেন সাংবাদিক, অভিনেতা ও খ্যাতনামা সংবাদ পাঠক কাফি খান। ভরাট গলার জন্য তিনি দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে ভার্জিনিয়া সেন্টার হাসপাতালে স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার বিকালে কাফি খান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)।
কাফি খান সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রেস সেক্রেটারি, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ পাঠক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। যুক্তরাষ্ট্র সময় শুক্রবার জুমার নামাজের পর সুগারল্যান্ড রোডের অ্যাডামস সেন্টার মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মুসলিম গোরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।
কাফি খানের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বাণী দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রমুখ।
১৯২৯ সালের ১ মে কাফি খানের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত এলাকার কাজীপাড়া গ্রামে। বারাসাত গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেন। তারপর কলকাতার রিপন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক করে বি কমে ভর্তি হন। ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের পর ভাইয়ের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন কাফি খান। তার পরিবারের অন্য সদস্যরা ভারতেই থেকে যান। ঢাকায় এসে পাকিস্তানের রাজস্ব বিভাগে কেরানির চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পাশাপাশি ১৯৫১ সালে পাকিস্তান রেডিওর ঢাকা শাখায় বেতার-নাটকে কণ্ঠদান শুরু করেন। এছাড়া ঢাকায় মঞ্চনাটকের অন্যতম সংগঠক হিসেবেও কাজ করতে থাকেন। ১৯৬৬ সালে কাফি খান প্রথম বার ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের কর্মী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখান থেকে অবসর নেন ১৯৯৪ সালে। তারপর যুক্তরাষ্ট্রেই পরিবার ও স্বজনদের সান্নিধ্যে অবসর জীবন কাটাচ্ছিলেন।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে কর্মরত ছিলেন। তত্কালীন কিছু প্রবাসীর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে জনমত গঠনে কাজ করেন তিনি। মঞ্চনাটক, আবৃত্তি ও বেতার অনুষ্ঠান ছাড়াও, ষাটের দশকে ঢাকায় বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
