আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা

ধর্মের নামে হত্যা-সংঘাত মানবসভ্যতার জন্য হুমিক

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২১, ২৩:৩৬

ইত্তেফাক রিপোর্ট

 

‘ধর্মের নামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান হত্যা, সন্ত্রাস ও সংঘাত মানবসভ্যতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে  জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশে ধর্মের নামে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই গণহত্যার প্রতিবাদ দূরে থাক, স্বীকৃতিটুকুও দেয়নি। ‘৭১-এর গণহত্যাকারীদের বিচার হয়নি বলে পাকিস্তান আজো নিজ দেশে বালুচ ও সিন্ধি জাতির ওপর গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে। গণহত্যা চলমান রয়েছে মিয়ানমার, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। গণহত্যার নিন্দা এবং গণহত্যাকারীদের বিচার না হলে ধর্মের নামে হত্যা, সন্ত্রাস ও হানাহানি থেকে বিশ্ববাসী মুক্তি পাবে না, বিশ্বে শান্তি         প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

গতকাল শুক্রবার গুলশানে হলি আর্টিজান ক্যাফের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ৫ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সর্ব ইউরোপীয় শাখার সভাপতি সমাজকর্মী তরুণ কান্তি চৌধুরী ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন। এই সভায় ‘৭১-এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি এবং চলমান সকল গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী ৭ জুলাই দুপুর ১টা থেকে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সদর দপ্তরের সামনে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সমাবেশে বিভিন্ন দেশের গণহত্যার ভিকটিম, মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ইউরোপের আটটি দেশের নির্মূল কমিটির নেতা ও কর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন, যা অনলাইনে সমগ্র বিশ্বে প্রচারিত হবে।

নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির গুলশানে হলি আর্টিজান ক্যাফেতে হামলায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নিহত নাগরিকদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ঐ হামলার পর গত পাঁচ বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠ পর্যায়ে ১৫ হাজার জঙ্গি-মৌলবাদীকে গ্রেফতার করেছে। জঙ্গি-মৌলবাদী মোকাবিলায় সরকার সাফল্যের পরিচয় দিলেও তাদের মৌলবাদী দর্শন ও রাজনীতির বিরুদ্ধে কোনো সরকারি উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর দর্শন ও রাজনীতি বাংলাদেশে এখনো প্রচারিত হচ্ছে। এই একই দর্শন আল-কায়দা, আইএসআইএস ও বোকো হারামের মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি-মৌলবাদী সংগঠনগুলো অনুসরণ করছে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ ধ্বংস করে শরিয়াভিত্তিক খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা। জঙ্গি মৌলবাদীদের এই দর্শন রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে, যার দিকনির্দেশনা আমাদের ’৭২-এর সংবিধানে রয়েছে।

ওয়েবিনারে আরো বক্তব্য রাখেন নির্মূল কমিটির সুইজারল্যান্ড শাখার আহ্বায়ক খলিলুর রহমান, সুইডেন শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার এম জামান, নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি নুরউদ্দিন আহমেদ, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ কাশেম, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন কায়েস, নির্মূল কমিটির ফ্রান্স শাখার আহ্বায়ক চলচ্চিত্রনির্মাতা প্রকাশ রায় প্রমুখ।