চিকিত্সকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবা কর্মী সংকটের কারণে সারাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিত্সাসেবা দিন দিন নাজুক হয়ে পড়ছে। দেশের ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯৬ জন চিকিত্সক নেই। নার্স- টেকনিশিয়ানসহ অন্যান্য জনবলেরও সংকট প্রকট। এক্সরে ও প্যাথলজি থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে কোন কোন উপজেলা হাসপাতালে ৩ থেকে ১০ বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও অপারেশন বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। কোন কোন উপজেলা হাসপাতালে জনবল ও যন্ত্রপাতি থাকলেও ইচ্ছা করে অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। গাইনি বিশেষজ্ঞ নেই অনেক উপজেলায়। বছরের পর বছর ধরে এই অবস্থা চলে আসছে। সব মিলিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা সেবায় করুণ দশা বিরাজ করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নিয়মিত রিপোর্ট পাঠিয়ে থাকেন সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালকরা (স্বাস্থ্য)। কিন্তু সেই রিপোর্টে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা সেবার দুরবস্থার চিত্র উঠে আসে না। ইত্তেফাকের উপজেলা প্রতিনিধিরা সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থা দেখে জানিয়েছেন, সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালকরা (স্বাস্থ্য) সেখানে নিয়মিত তদারকি করেন না। পাঠান না সঠিক রিপোর্টও। অবৈধ টাকার ভাগাভাগি নিয়ে তারা ব্যস্ত থাকেন। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে যখন যা প্রয়োজন তা দিচ্ছেন। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ও সিভিল সার্জনরা সঠিকভাবে কাজ করলে করোনা মহামারীতে স্বাস্থ্যসেবার এই দূরবস্থা হতো না। যত দোষ নন্দ ঘোষের মতো অবস্থা। যত দোষ নন্দ ঘোষ প্রবাদটির অর্থ - যে যেখানে যাই দোষ করুক না কেন একজনের উপরই দোষ দেওয়া হয়। এখন স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন দায়ী হবেন? সব দোষ যদি প্রধানমন্ত্রীর কাঁধে নিতে হয় তাহলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ও সিভিল সার্জন-এই বিশাল কাঠামো রাখার কী দরকার। তারা ঠুঁটো জগন্নাথের মতো কী বসে থাকবেন? উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবার করুণ দশার কারণে গ্রামের রোগীরা এখন ঢাকামুখী হচ্ছেন। এ কারণে ঢাকায় চাপ বাড়ছে। করোনার রোগী শনাক্তের ঊর্ধ্বগতি এবং টানা ষষ্ঠ দিনের মতো মৃত্যু সংখ্যা একশ’ ছাড়িয়েছে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের কারণে গ্রামে ও শহরে সব জায়গায়ই করোনা রোগী বাড়ছে। অক্সিজেনের সংকট দেখা দিয়েছে। মৃত্যুর হার আরো বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা আশংকা প্রকাশ করে বলেন, ভারতে অক্সিজেন ও আইসিইউ সংকটে অনেক রোগী মারা গেছেন। এর মাঝেই স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কোন আইসিইউ বেড খালি নেই। আর উপজেলা পর্যায়ে তো রোগীরা সুচিকিত্সা পাচ্ছেনই না। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা সব সময়ই বলে আসছেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সর্দি, কাশি, জ্তর ও গলা ব্যথা হলে বাসায় রেখে কিংবা হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখে প্রাথমিক ট্রিটমেন্ট দিলে ৯০ ভাগ করোনা আক্রান্ত রোগী ভাল হয়ে যান। বাকি ১০ ভাগের হাসপাতালে চিকিত্সা সেবা নেওয়ার প্রয়োজন হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক ট্রিটমেন্টও দেওয়া হচ্ছে না। কোন কোন উপজেলায় করোনার পরীক্ষাও হচ্ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নামজুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই করোনা রোগী বাড়ছে। চিকিত্সা সেবার সক্ষমতার বাইরে গেলে সমস্যা তো হবেই। তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সা সেবার চিত্র নিয়মিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠান সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালকরা (স্বাস্থ্য)। তবে এই রিপোর্টের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের কোন মিল নেই বলে ইত্তেফাকের উপজেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা তপন বসু জানান, বরিশালের আগৈলঝাড়ায় উপজেলা ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক না থাকায় দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ানসহ অন্যান্য অপারেশন। করোনা রোগীর জন্য নমুনা পরীক্ষাসহ চিকিত্সার জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড থাকলেও অবকাঠামো ও জনবল সংকটের মুখে রোগীর সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএএফপিও) ডা. বখতিয়ার আল মামুন জানান, উপজেলা হাসপাতালে ২৪ জন চিকিত্সক পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন। অ্যানেস্থেশিয়া, সার্জারি ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক না থাকায় স্বয়ংসম্পূর্ণ অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্ত্বেও তা দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ রয়েছে। চতুর্থ শ্রেনীর ৪জন কর্মচারী সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা তাদের কাঙ্খিত সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। করোনা ওয়ার্ডে ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকলেও সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংকটে ভুগছে পুরো হাসপাতাল।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পাল জানান, নেত্রকোনা জেলার দশ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিত্সকের পদ রয়েছে ২৩৩ টি। আর বর্তমানে চিকিত্সক আছেন ১৩৬ জন। ৯৭ জন চিকিত্সক নেই বছরের পর বছর ধরে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর বর্তমান অবস্থা হচ্ছে, পূর্বধলায় ৩১ টি চিকিত্সক পদের মধ্যে ১৭ টি পদ শূন্য। দুর্গাপুরে ১৮টি পদের মধ্যে ৭টি পদ শূন্য, বারহাট্টায় ১৭টির মধ্যে ৫টি, কলমাকান্দায় ২৯টি পদের মধ্যে ১৪টি, মোহনগঞ্জে ২৮টি পদের মধ্যে ১১টি, খালিয়াজুরীতে ১৭টি পদের মধ্যে ৮টি, মদনে ২৯টি ১৩টি, আটপাড়ায় ১৭টি ৬টি, কেন্দুয়াতে ৩৪টি পদের মধ্যে ১৪টি এবং নেত্রকোনা সদরে ১৫টির মধ্যে ২টি পদ শূন্য রয়েছে। পূর্বধলা হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, এই হাসপাতালে মেডিসিনের জুনিয়র কনসালটেন্টসহ সার্জারি, গাইনি, শিশু, কার্ডিও, ইএনটি, চর্ম এবং অর্থপেডিকসহ ৮ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট নেই। এছাড়া এই হাসপাতালে ৪টি মেডিকেল অফিসারের পদও শূন্য। নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডাঃ সেলিম মিয়া বলেন, সকল হাসপাতালের শূন্যপদগুলো পূরণের জন্য তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠিপত্র দিয়েছেন। সময় সময় চিকিত্সক পোষ্টিং দেওয়া হলেও সকল শূন্য পদে চিকিত্সক দেওয়া হয় না। ফলে উপজেলাগুলোয় কিছু সমস্যাতো থেকেই যাচ্ছে।
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা তপন কুমার দাস জানান, বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে দশটি শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ১০টি। এই হাসপাতালে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করানো হচ্ছে। অন্যদিকে অপারেটর না থাকায় এক্সরে মেশিন অব্যবহূত পড়ে আছে। ১৫ বছর ধরে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রেডিওগ্রাফি পদটি শূন্য। এতে রোগীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে সুবিধা পাচ্ছেন না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু ৫০ শয্যা অনুযায়ী যে জনবল নিয়োগ দেওয়ার কথা, তা এখনো দেওয়া হয়নি। ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চলছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে। ৩১ শয্যার জনবলের মধ্যেই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) পদটি ১৫ বছর ধরে শূন্য রয়েছে। টেকনোলজিস্টের অভাবে ৩ বছর ধরে অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে এক্সরে মেশিন। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের (ল্যাব) ২টি পদের একটি শূন্য। একটি পদের কর্মরত টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ডেপুটেশনে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে থাকায় এই বিভাগটি বন্ধ আছে প্রায় ৩ বছর ধরে। অন্যদিকে জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদটি শূন্য আছে। উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের (স্যাকমো) ১৩টি পদের মধ্যে ৮টি পদ শূন্য, নার্সের ১৪টি পদের মধ্যে ৪টি শূন্য, নার্সিং সুপারভাইজারের ২টি পদের মধ্যে ১টি শূন্য, মিডওয়াইফের ৫টি পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৭টি পদের মধ্যে ৬টি পদ শূন্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ২টি পদের দুটিই শূন্য। বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস ইত্তেফাককে বলেন, ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই ৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে। ৩১ শয্যার জনবলেও বেশ কিছু পদ শূন্য আছে।
তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা গাজী জাহিদুর রহমান জানান, করোনা রোগিদের জন্য ৫ টি বেড নির্ধারণ করা হলেও চিকিত্সকসহ জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ও পরিবেশ না থাকায় কোন রোগি ভর্তি নিচ্ছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। করোনায় আক্রান্ত রোগি যারা অপেক্ষাকৃত সুস্থ তাদেরকে বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে আর যারা ঝুঁকিপূর্ণ তাদেরকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রেফার করা হচ্ছে। তবে জ্বরে আক্রান্ত কিছু রোগিকে পৃথক দুটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালে অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকলেও সেটি পর্যাপ্ত নয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাজীব সরদার জানান, হাসপাতালের চিকিত্সক-নার্সসহ ১২ জন স্বাস্থ্যকর্মী বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত। করোনা রোগিদের জন্য ৫ টি বেড নির্ধারণ করা হলেও চিকিত্সকসহ জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ও পরিবেশ না থাকায় কোন রোগি ভর্তি করানো হচ্ছে না।
রাজিবপুর ( কুড়িগ্রাম ) সংবাদদাতা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কাগজ কলমে কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো এর কার্যক্রম চলছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৬ জন চিকিত্সক থাকার কথা থাকলেও মাত্র ২ জন চিকিত্সক রয়েছেন। এ হাসপাতালে আধুনিক ওটি ( অপারেশন থিয়েটার ) থাকলেও কনসালটেন্ট ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিত্সকের অভাবে অপারেশন হয় না। প্রায় এক যুগ ধরে নষ্ট এখানকার এক্স-রে মেশিন। ডেন্টাল চেয়ার থাকলেও নেই যন্ত্রপাতি। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন। সিজারিয়ান অপারেশন ব্যবস্থা না থাকায় কতিপয় আয়া তাদের বাড়িতে ডেলিভারি করাতে উত্সাহিত করছেন। এসব কারণে রাজিবপুরে মাতৃমৃত্যুর হার অন্যান্য উপজেলা থেকে অনেক বেশি। কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ তিন ইউনিয়নের ছোট উপজেলার জন্য ডাক্তার কম দিয়েছে। এ রকম আরও তিন ইউনিয়ন বিশিষ্ট উপজেলা আর কোথাও আছে কি না আমার জানা নেই। জনবলের সংকট সর্বত্রই। অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাপারে শিগগিরই ব্যবস্থা হচ্ছে।’
জামালপুর প্রতিনিধি এসএমএ হালিম দুলাল বলেন, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে মোট ৩৪ জন ডাক্তার থাকার কথা। তার স্থলে আছে মাত্র ৫ জন চিকিত্সক। ১১ জন চিকিত্সক হাসপাতালে পোষ্টিং দিলেও তারা যোগদান করেননি। ডেপুটিশন (সংযুক্তি বদলি) অন্যত্র আছেন ৮জন। মাতৃকালিন ছুটিতে এক নারী চিকিত্সকসহ ছুটিতে আছেন সর্বমোট ১০জন। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগে জনবল সংকটে উপজেলার হাসপাতালে চিকিত্সা সেবা ভেস্তে যেতে বসেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য সুত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে কনসালটেন্ট, জুনিয়র কনসালটেন্ট, দন্ত চিকিত্সক নেই। অ্যানেস্থিশিয়া ডাক্তার, সার্জিক্যাল ডাক্তারের অভাবে দীর্ঘদিন যাবত অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে। অনেক ডাক্তার বছরের পর বছর ট্র্রেনিং এর অজুহাতে আবার অনেকেই ডেপুটিশনে (সংযুক্ত বদলী) নিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বিভিন্ন শহরে দাপটের সাথে প্রাইভেট চিকিত্সায় নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। অথচ তারা ইসলামপুর উপজেলা হাসপাতাল থেকে প্রতি মাসে সরকারি সুযোগ সুবিধা বেতন ভাতা গ্রহণ করছেন বছরের পর বছর।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ওয়ার্ডে চিকিত্সক, ওষুধ, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিত্সা সেবা। অভিযোগে প্রকাশ, করোনা ২য় ঢেউয়ের শুরুতে ১৮ শয্যা বিশিষ্ট করোনা ওয়ার্েড ১২ জন চিকিত্সক থাকলেও করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রোগীদের চাপের কারণে ৭২ শয্যায় উন্নিত করা হয় করোনা ওয়ার্ড। কিন্তু শয্যার সংখ্যা বাড়লেও চিকিত্সকের সংখ্যা বাড়ানো হয় মাত্র ৮ জন। বর্তমান করোনা ওয়ার্ডে ৭২ জন রোগী ভর্তি থাকলেও ২০ জন চিকিত্সক দিয়ে চিকিত্সা দেওয়া খুই কষ্টকর হয়ে পড়েছে বলে জানান করোনা ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ডাঃ আহনাক শাহরিয়ার। তিনি আরো জানান, ১০ জনের চিকিত্সকের দল ১৫ দিন করে সকাল, দুপুর ও রাত ৩ বেলা ডিউটি করে। এর মধ্যে যারা রাতের ডিউটি করে, তাদের পরের দিন ডিউটি দিলে খুব অসুবিধা হয়। এক্ষেত্রে চিকিত্সকের সংখ্যা বাড়ানো দরকার। সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, সদর হাসপাতালে করোনা’র নমুনা পরীক্ষার জন্য আরটি-পিসিআর ল্যাব, আইসিইউ, চিকিত্সক, ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীসহ চিকিত্সা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে বলা হয়েছে, দ্রুত সময়ে তা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
