বাজারে ক্রেতা কম, তবু সবজির বাজার চড়া

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২১, ২৩:৩৭

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানীসহ সারা দেশে কঠোর লকডাউনের প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারেও। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি ও খুচরাবাজার কাওরান বাজারের পাশাপাশি, তুরাগ এলাকার নতুন বাজার ও মহাখালী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজার অনেকটা ফাঁকা। ক্রেতার সংখ্যা বেশ কম। তবে ক্রেতা কম থাকলেও সবজির দাম বেশ চড়া। এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে এক লাফে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, অনেক ক্রেতা লকডাউন শুরুর আগে সপ্তাহের বাজার করেছেন। কেউ কেউ আরো বেশি পরিমাণে কিনেছেন। ফলে বাজারে ক্রেতা এখন কম। এছাড়া জরিমানা ও মামলার ভয়েও অনেকে বাইরে বের হচ্ছেন না। যদিও কাঁচাবাজার লকডাউনের আওতামুক্ত। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে ক্রেতা কম থাকলেও সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। এজন্য বৈরী আবহাওয়াকে দায়ী করে তারা বলেন, গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে অনেক সবজিখেত নষ্ট হয়েছে। যদি বাজারে ক্রেতা থাকত তাহলে সবজির দাম আরো বেশি হতো বলে জানান তারা।

গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে ঢ্যাঁড়শ, পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টম্যাটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করল্লা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। যদিও সপ্তাহখানেক আগেও এসব সবজি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমে বিক্রি হয়েছে।    আলুর দাম গত সপ্তাহের মধ্যে বাড়েনি। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়।

গতকাল বাজারে আকারভেদে প্রতিটি লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। কাঁচাকলার হালি বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। তবে কাঁচামরিচের দাম বাড়েনি। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। আর আমদানিকৃত পেঁয়াজের কেজি ৪২ থেকে ৪৫ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে নতুন বাজারের বিক্রেতা আমিনুল বলেন, সারা দেশে বৃষ্টির জন্য দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেক সবজিখেত নষ্ট হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তিনি বলেন, লকডাউনের কারণে বাজারে ক্রেতার চাপ কম। তা না হলে সবজির দাম আরো বাড়ত বলে জানান তিনি। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে গতকাল বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবে এক সপ্তাহ আগেও বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪৫ টাকায়।

বাজারে অন্যান্য মুরগির মধ্যে লাল লেয়ার প্রতি কেজি ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংস ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা ও খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ফার্মের লাল ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা।