মহামারি করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। গতকাল বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিন ভারী বৃষ্টির কারণে ঢাকা ছিল একেবারেই ফাঁকা। প্রথম দিনের তুলনায় গতকাল সড়কে মানুষের আনাগোনা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির দাপট ছিল কম। বিভিন্ন সড়কে অল্প কিছু রিকশা, মাইক্রোবাস, ট্রাক, কার্ভাড ভ্যান, পিকআপ চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে প্রতিটি পয়েন্টেই তত্পর ছিল পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা। অনেক জায়গায় অলস সময় কাটাতে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
প্রথম দিনের মতো গতকালও অকারণে বের হলেই জরিমানা করা হয়, দেওয়া হয় মামলা। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আটক করা হয়েছে ৩২০ জনকে। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে একই অপরাধে ২০৮ জনকে জরিমানা করা হয়েছে।
অপরদিকে কঠোর বিধিনিষেধের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলাশহরগুলোতে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়িত হলেও অনেক উপজেলার চিত্র ছিল বিভিন্ন। সেখানে ছিল ঢিলেঢালা ভাব। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে লোকজন অবাধে চলাফেরা করছে। এ ধরনের চলাচল প্রতিরোধ করা না গেলে করোনা সংক্রমণ রোধ করা যাবে না।
আটক-জরিমানা :বিনা কারণে বাইরে বের হওয়ায় গতকাল ৩২০ জনকে আটক ও ২০৮ জনকে জরিমানা করা হয়। দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আট বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় সরকারের বিধি-নিষেধ কার্যকর করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অপরদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে পরিচালিত অভিযানে ৬৮টি গাড়িকে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কাঁচাবাজারে ভিন্ন চিত্র :সড়কগুলোতে মানুষের তেমন আনাগোনা না থাকলেও ভিন্ন চিত্র ছিল কাঁচাবাজারগুলোতে। রীতিমতো ভিড় জমিয়ে চলে কেনা-বেচা। ক্রেতাদের বেশ ভিড় দেখা গেছে কাওরান বাজার, ফার্মগেট ও মোহাম্মদপুরের কাঁচাবাজারে।
বুঝতে আরো দুই-এক দিন সময় লাগবে :নগরীর বিমানবন্দর এলাকায় কথা হয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সাব্বির আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিধিনিষেধ পালন কেমন হচ্ছে তা বুঝতে আরো দুই-এক দিন সময় লাগবে। বিধিনিষেধ ছাড়াও বৃষ্টির কারণে সড়কে যানবাহনের অপ্রতুলতা রয়েছে। যে রিকশাগুলো চলছে, তারা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে।
আফজাল হোসেন তপু নামের আরেক পথচারী রিকশায় কুড়িল থেকে বনানী যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ২০০ টাকা রিকশা ভাড়ায় বনানী যাচ্ছি, একদিকে কঠোর বিধিনিষেধ অন্যদিকে ভোর থেকে বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তায় খুব একটা মানুষ দেখতে পাইনি। যেহেতু গণপরিবহন নেই, তাই বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশায় যাচ্ছি।
এদিকে, প্রথম দিনের তুলনায় গতকাল সড়কে মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অনেকে। তারা বলছেন, সাধারণ মানুষের সহযোগিতা থাকলে সংক্রমণের রাশ টেনে ধরা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ চলবে আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত।
