পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর জাগদীপ ধনকড়ের বাজেট ভাষণে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার উল্লেখ নেই। এর প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির এমএলএ-রা। পোস্টার নিয়ে প্রতিবাদ জানান তারা। এ কারণে গভর্নর সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়ে বিধানসভা ত্যাগ করেন। প্রায় একই সময়ে ওয়াক আউট করেন বিজেপির এমএলএ-রাও।
নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের লিখিত ভাষণ পাঠ করতে হয় গভর্নরকে। এর বাইরে কোনো কিছু বিধানসভায় বলা যায় না। এটাই নিয়ম। রাজ্য সরকারের এই লিখিত ভাষণের বয়ান বদল নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে উত্তপ্ত পশ্চিম-বঙ্গের রাজনীতি। গভর্নর বয়ান বদলের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লিখিত ভাষণ পাঠ করেন তিনি। তবে পুরোটা ভাষণ পড়তে পারেননি। তিনি শুরু এবং শেষের অংশ পড়েন। কারণ গভর্নরের ভাষণ শুরু হতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। গভর্নর ভাষণ থামিয়ে দেন। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার স্পিকার বিমান ব্যানার্জি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলোচনার কিছুক্ষণ পর তিনি ফের ভাষণ শুরু করেন। ফের গোলমাল শুরু হয়।
পরে শুভেন্দু অধিকারী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণে সত্যের অভাব ছিল। সে কারণেই বিজেপি বিধায়করা বাধা দিয়েছেন। ভোট-পরবর্তী সহিংসতার উল্লেখই ছিল না গভর্নরের ভাষণে। কেন ভাষণ সম্পূর্ণ করেননি, সে ব্যাপারে তার জবাব, এর উত্তর গভর্নরই দিতে পারবেন। ভোট-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে একটি লাইনও যদি ভাষণে লেখা হতো, তদন্ত করার কথা বলা হতো, তবে আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতাম।’
