করোনার নমুনা পরীক্ষা

৪০ জালিয়াত চক্র দিচ্ছে ভুয়া সনদ

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২১, ২৩:৩৯

কেউ বিদেশে যেতে চাইলে তাকে ৭২ ঘণ্টা আগের করোনা নমুনা পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ নিয়ে বিমানে উঠতে হয়। এরই মধ্যে সৌদি আরব, দুবাই ও যুক্তরাজ্যে গমনের সময় যাত্রীর সঙ্গে নেওয়া নেগেটিভ সনদ পরীক্ষা করে দেখা গেছে সেটি ভুয়া। এক শ্রেণির প্রতারক চক্র বিদেশ গমনেচ্ছু যাত্রীদের করোনা নমুনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ দিচ্ছে। যাত্রীরা কীভাবে ভুয়া সনদে বিমানবন্দর পর্যন্ত গেলেন তা নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে এক সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে ১১ জন আর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে দুই জন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মিলেছে চক্রের আরো অর্ধশতাধিক সদস্যের নাম।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে অন্তত ৪০টি জালিয়াত চক্র আছে, যারা করোনা সনদ নিয়ে কারসাজি করছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই রয়েছে ২২টি চক্র। তাদের সঙ্গে অর্ধশতাধিক দালাল চক্র কাজ করছে। তারা কোনোরকম পরীক্ষানিরীক্ষা ছাড়াই নেগেটিভ সনদ দিচ্ছে। চক্রের ঐসব সদস্যের পাশাপাশি করোনা রিপোর্ট জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত চারটি প্রতিষ্ঠানসহ এই প্রতারণামূলক কাজে জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের যাত্রীদের বেশ কয়েকটি দেশের বিমানবন্দরে নেমে পুনরায় পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। গত এপ্রিল মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়া যাত্রীদের ৩৩ জনের করোনা নমুনার পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এরই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর আগে গত বছর আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি হেলথ কেয়ারের জাল সনদ নিয়ে ইতালি যাওয়ায় পর বেশ কয়েক জন যাত্রীর করোনা নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল। ঐ ঘটনায় ঐ সময় ইতালির সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মাঈন গতকাল বলেন, করোনা সনদ জালিয়াতির অভিযোগে এর আগে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. শাহেদ ওরফে শাহেদ করিম, জেকোজি হেলথ কেয়ারের ডা. সাবরিনাসহ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু তাতেও এ নিয়ে জালিয়াতি থামেনি। নতুন করে আরো অনেক জালিয়াত চক্র গড়ে উঠেছে রাজধানীসহ সারা দেশে। তাদের ধরতে র্যাব তত্পর আছে।

র্যাব জানায়, করোনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির ঘটনায় সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার, আল-জামি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, স্টিমজ হেলথ কেয়ার বিডি লিমিটেড ও মেডিনোভা মেডিক্যাল সার্ভিসেস লিমিটেডকে (মিরপুর ব্রাঞ্চ) কালো তালিকাভুক্ত করে বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে মহাখালীতে ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ পরিচালিত নমুনা সংগ্রহের বুথের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে কেউ যেন আর প্রতারণা করতে না পারে, সেদিকে নজরদারি করছে র্যাব।