ভারত থেকে আসছে রামপাল বিদ্যুেকন্দ্রের কয়লার প্রথম চালান

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ০০:২৮

রামপাল বিদ্যুেকন্দ্রে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশে কয়লা পাঠিয়েছে ভারত। গতকাল শুক্রবার কলকাতার শ্যামা প্রসাদ মুখার্জী বন্দরের (এসএমপি) নেতাজী সুভাষ ডক (এনএসডি) থেকে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে একটি জাহাজ ছেড়েছে। নির্মাণাধীন কেন্দ্রটির জন্য এটিই কয়লার প্রথম চালান। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য হিন্দু, এনডিটিভি এবং ইকোনমিক টাইমস গতকাল জানায়, ৩ হাজার ৮০০ টনের প্রথম চালান গতকাল কলকাতা বন্দরে খালাসের পর বিদ্যুেকন্দ্রের জন্য নির্ধারিত ক্যাপটিভ জেটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। জেডএস লজিস্টিকসের মাধ্যমে গোদাবরি কমোডিটিজ এই কয়লার রপ্তানিকারক। সুন্দরবনের অদূরে বাগেরহাটের রামপালে ভারতের এনটিপিসি ও বাংলাদেশের পিডিবির যৌথ উদ্যোগে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রামপাল তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ থেকে এই কয়লা আনা হচ্ছে। এনটিপিসি জানায়, এসএমপি কলকাতা থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টন কয়লা বাংলাদেশে যাবে বলে আমরা আশা করছি।

এদিকে ভারত থেকে কয়লা আনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ভারতীয় কয়লা পৃথিবীর সব থেকে নিম্নমানের কয়লার অন্যতম। যে কারণে বিদ্যুত্ উত্পাদন করার জন্য ভারত নিজেই অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা আমদানি করে থাকে। ভারতীয় কয়লা ব্যবহার করলে একদিকে ৪০ শতাংশ বেশি কয়লা দরকার হবে অন্যদিকে প্রায় ৫ গুন বেশি ফ্লাইঅ্যাশের দূষণ বাড়বে। এ দূষণ যুক্ত হয়ে সুন্দরবনের পানি, মাটি, গাছপালা ও প্রাণসম্পদের যে ক্ষতি হবে তাতে বিশ্ব ঐতিহ্য ও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঢাল ধ্বংসের মুখে পড়বে। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন—অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশি কবীর, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বিডব্লিজিইডি’র আহ্বায়ক কাজী মারুফুল ইসলাম।

ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রামপাল ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ হুমকিতে ফেলবে দাবি করে আন্দোলন করে আসছে বিভিন্ন দল, সংগঠন ও জোট। তবে বাংলাদেশ সরকার বলছে, সুন্দরবন রক্ষায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। যাতে পরিবেশের ক্ষতি ন্যূনতম মাত্রায় রাখা হবে।