অ্যালিমিনেশন রাউন্ডে কিশোয়ার

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ১৪:৫২

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ১৩তম আসরে পৌঁছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোয়ার চৌধুরী এখন অ্যালিমিনেশন রাউন্ডে। এ রাউন্ডে অ্যালিমিনেশন থেকে নিজেকে বাঁচাতে হলে তাকে তার তৈরি খাবারের মধ্য দিয়ে বরাবরের মতো মন জয় করতে হবে বিচারকদের। আর পেতে হবে ইমিউনিটি।

তবে এতটাও সহজ হয়নি মঙ্গলবার (২৯ জুন) রাতে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার অ্যালিমিনেশন রাউন্ড। কারণ দেওয়া হয়েছিলো ব্যতিক্রম কিছু টুইস্ট। রান্না করতে হবে বাইরে খোলা আকাশের নিচে, মরুভূমিতে। আর উপকরণগুলো সবার জন্য ছিলো পুরোপুরি গ্রামীণ এবং অন্যরকম।

এবার কিশোয়ার চমক তৈরি করেন এক থালাতেই তার দেশ ও ঐতিহ্যকে একত্রে এনে। তিনি তৈরি করেন হারিয়ালি চিকেন।

দেশীয় যে উপাদানগুলো দেওয়া হয়েছিলো সেগুলো দিয়ে কখনই অনেক বেশি রান্না করেনি কিশোয়ার। কিন্তু এবার তাকে ইমিউনিটি পেতে হলে এগুলো দিয়ে তৈরি করতে হবে তার সর্বোত্তম খাবারটি। এরকম ভেবে শুরুতে অনেকটা চিন্তায় পরে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি বাঙ্গালি এই যোদ্ধা। মুহূর্তেই কাজে লেগে যান নিজের শতভাগ দিয়ে।

পরে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক বেশি আনন্দিত দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় এসে এখানকার দেশীয় উপাদানগুলোর সাথে পরিচিত হতে পেরে। আমি নিঃসন্দেহে চাই এই উপকরণগুলোকে আমার দেশের খাবারের সাথে মিশিয়ে নতুন একটা খাবারের ধরন (কিউসিন) উদ্ভাবন করতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশি। তাই আমি চাই এই খাবারের মাধ্যমে আমাকে, আমার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে।’

হারিয়ালি চিকেন ছাড়াও কিশোয়ার রাঁধেন কোয়ানডং চাটনি, ছোট টমেটো ও নান।

আজ যদি মাস্টারশেফ থেকে বিদায় নিতে হয় তখন কি হবে? বিচারকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘আমি কখনই আজকের এই দেশীয় উপাদানগুলো দিয়ে আগে কাজ করিনি। কিন্তু আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি অবশ্যই এগুলোকে আমার দেশীয় খাবারের সাথে মিলিয়ে নতুন কিছু তৈরি করার চেষ্টা করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আজ এখান থেকে চলে গেলেও আমি খুব বেশি দুঃখী হবো না। কারণ আমি যে বইটি লিখতে চাই তার জন্য আমি এখান থেকে অনেক কিছু শিখে যাচ্ছি। যে বই আমি আমার বাচ্চাদের প্রজন্মকে দিয়ে যেতে চাই সেখানে আমার এই মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার যাত্রার কথা উল্লেখ থাকবে। তারা গর্বের সাথে তাদের অভিভাবককে স্মরণ করবে। এটাই সব থেকে বেশি আনন্দের আমার জন্য।’

তবে এই পর্বে তিনি ইমিউনিটি পেলেন কি তা জানা হয়নি। তার জন্য দেখতে হবে মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ১৩তম আসরের আগামী পর্ব। এখনও কিশোয়ারের জিতার জন্য অনেক পথ বাকি।

বিশ্বের রান্না বিষয়ক টেলিভিশন রিয়েলিটি শোর মধ্যে মাস্টারসেফ অন্যতম। বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ তাদের নিজস্ব মাস্টারশেফ আয়োজন করে থাকে। বিশ্বে মাস্টারশেফ অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’ জনপ্রিয়তার দিক থেকে রয়েছে তালিকার শীর্ষে। এটি প্রতিযোগিতামূলক রান্নার গেম শো।

ইত্তেফাক/এনএসএন/এএএম