কিস্তির টাকার জন্য প্রাণ গেলো গৃহবধূর

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ১১:০৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলায় করোনার কারণে অভাব-অনটন ও কিস্তির টাকা দিতে না পেরে আনোয়ারা বেগম (৩০) নামে চার সন্তানের  এক জননী আত্মহত্যা করেছেন। 

শুক্রবার (২ জুলাই) বিকেলে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে সদর থানা পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে আনোয়ারা বেগম ‘কেরি পোঁকা’ মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

হাসপাতাল ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, করোনার আগে ২০১৯ সালে সৌদি আরব যান আনোয়ারার স্বামী ফারুক মিয়া। পরে তার বাবা মারা যাওয়ার সাত মাস পর ফারুক দেশে চলে আসেন। করোনার কারণে তার আর বিদেশ যাওয়া হয়নি। সংসারে অভাব-অনটন এবং বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও একাধিক সমিতি থেকে কিস্তি নিয়ে সংসার চলতো তাদের। করোনার কারণে ফারুক মিয়া কর্মহীন হয়ে যাওয়ার প্রতিমাসের কিস্তির টাকা ব্যবস্থা করতে পারতেন না। এ নিয়ে বিভিন্ন এনজিও ও বিভিন্ন সমিতির লোকজনের কথা শুনতে হতো আনোয়ারা বেগমের। এ অভাব-অনটন ও বিভিন্ন কিস্তির টাকা না দিতে পারায় ও কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেরি পোঁকা মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে রাতে পরিবারের লোকেরা আনোয়ারাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই আনোয়ারা মারা যান।

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল সূত্রে জানতে পারি একজন গৃহকর্মী কেরি পোঁকা মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্ত শেষে আনোয়ারার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেড