ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ভৈরব নদ বুক জুড়ে চলছে চাষাবাদ

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৪

এক সময়ের স্রোতস্বিনী ভৈরব নদ পানির অভাবে শুকিয়ে গেছে। এছাড়া প্রতিবছর পলি জমে ক্রমেই ভরাট হয়ে যাচ্ছে এ নদ। ইতিমধ্যে অধিকাংশ এলাকা ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে নদটি। ড্রেজিং না করায় নদের দুই পাড়ের জমি কৃষকসহ ভূমিদস্যুরা দখল করে। ভৈরব নদ বাঁচাতে অবিলম্বে ড্রেজিং ও খনন করে এর নাব্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, এ উপজেলার জীবননগর পৌরসভা, মনোহরপুর, উথলী, আন্দুলবাড়িয়া ও বাঁকা ইউনিয়নে সরকারি খাস খতিয়ানে ভৈরব নদের প্রায় ৮৩ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে পৌরসভায় ২১ হেক্টর, উথলী ইউনিয়নে ৩২ হেক্টর, আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ১৯ হেক্টর ও বাঁকা ইউনিয়নে ১১ হেক্টর জমি রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নদের যেসব অংশে পানি প্রবাহ রয়েছে সেসব অংশ প্রভাবশালীরা দখল করে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করে মাছ চাষ করছে। ফলে নদের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবার কেউবা নদের পাড় দখল করে নির্মাণ করেছে ইটভাটা। আবার যেসব স্থানে পানি শুকিয়ে গেছে সেসব স্থান দখল করে নদের বুক চিরে করা হচ্ছে ধান চাষাবাদ।

নদী সংলগ্ন লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক রমজান আলী জানান, পূর্বে ভৈরব নদের পানি দিয়ে ধানসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষেতে সেচ দিয়ে শস্য উত্পাদন করতো কৃষকরা; কিন্তু ভূমিদস্যুরা নদের মাঝ বরাবর বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে নদ একেবারে শুকিয়ে গেছে। ফলে শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে ফসল ক্ষেতে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে উত্পাদন খরচ বহুগুণে বেড়ে গেছে। 

বাঁকা মাঠপাড়ার আবুল হাশেম জানান, ভূমিদস্যুরা এর পূর্বে নদের জমি দখল করে নিয়েছিল। তখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা দখলমুক্ত হয়; কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় তারা আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তিনি অনতিবিলম্বে ড্রেজিং করে নদের নাব্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

আরও পড়ুনঃ অস্ট্রেলিয়ায় রেকর্ড তাপমাত্রা

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, যে সমস্ত ব্যক্তিরা নদের মাঝ বরাবর বাঁধ দিয়েছে এবং নদের দুই পাশ থেকে মাটি কেটে ভরাট করে চাষাবাদ করছে তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু