এসএসসি পরীক্ষার পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচির আলোকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ১৮:৫১

এইচ. এম. ফেরদাউস হাসান রাসেল

প্রভাষক (বাংলা)

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা

পল্লিজননী

মা মরা খাদিজার কাছে বাংলা সিনেমার একটি গান খুবই প্রিয়-

মায়ের মতো আপন কেহ নাইরে

আমি আঘাত পাইলে তোমার চক্ষে নামে পানি,

সেই পানিতে ধুয়ে মাগো কোলেতে লও টানি,

তুমি যেদিন থাকবে না মা সেদিন আমার হবে কী,

সুখে থাকি কাহার আসবে যাবে কী।

ক. কবি জসীমউদ্দীন কোন কবি নামে খ্যাত?  ১                                                     

খ. ‘মোসলমানের আড়ঙ দেখিতে নাই’- মা ছেলেকে কেন একথা বলেছেন ?                   ২

গ. উদ্দীপকের গানটি ‘পল্লিজননী’ কবিতার সাথে যেদিন থেকে প্রাসঙ্গিক- তা ব্যাখ্যা করো।       ৩

ঘ. উদ্দীপকটি কী ‘পল্লিজননী” কবিতার সমগ্রভাবকে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।                            ৪

ক) কবি জসীমউদ্দীন ‘পল্লিকবি’ খ্যাত।

খ) পুতুল কেনার পয়সা জোগাড় করতে পারেননি বলে মা ছেলেকে বলেছেন- মোসলমানের আড়ঙ দেখিতে নাই। অসুস্থ ছেলের শিয়রে বসে মায়ের পুরোনো দিনের নানা কথা মনে পড়ে। অভাব-অনটনের জন্য ছেলের ছোটখাটো অনেক বায়না তিনি পূরণ করতে পারেননি। নিজের দারিদ্র্য ও অসহায়ত্ব আড়াল করার জন্য মা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বলেছিলেন- মোসলমানের আড়ঙ দেখতে নেই।

গ) মায়ের কাছে সন্তানের আবদার ও প্রত্যাশার দিক থেকে উদ্দীপকের গানটি ‘পল্লিজননী’ কবিতার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। পাঠ্য কবিতায় আলোচিত হয়েছে অসুস্থ সন্তানের মায়ের সেবা যত্ন ও ভালোবাসা। মা ছেলের শিয়রে রাত জেগে থাকেন। তখন মায়ের কাছে ছেলে নানারকম আবদার করে। করিমের সাথে খেলতে যাবার অনুমতি, লাটাই কিনে দেবার বায়না, আড়ঙের দিনে পুতুল কিনে দেবার আবদার ছেলে মায়ের কাছে করে। আবদারমুখো ছেলের দিকে চেয়ে গ্রামীণ মায়ের মনে অনেক কথা জেগে ওঠে। এমন স্নেহ ও ভালোবাসা সন্তান কেবল মায়ের কাছে থেকেই প্রত্যাশা করতে পারে।

উদ্দীপকের খাদিজা মাতৃহীন একটি মেয়ে। মা বেঁচে থাকতে মায়ের কাছে থেকে খাদিজা যে ভালোবাসা পেয়েছে তা আর কারো নিকট থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। সে কষ্ট পেলে তার মা-ও কষ্ট পেত, তাকে বুকে টেনে নিত। মা যদি না থাকে তবে কে তাকে এমন ভালোবাসবে এই শঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে খাদিজার মনে। কেননা পৃথিবীতে মায়ের মতো আপন কেউ হতে পারে না। মায়ের কাছেই সন্তান তার সবরকম ইচ্ছাা ও আবদার প্রকাশ করতে পারে। উদ্দীপকের খাদিজার মাঝে সে দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ) রুগ্ন সন্তানের আরোগ্য লাভের জন্য মায়ের চিরন্তন ভালোবাসা প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকটি ‘পল্লিজননী’ কবিতার সমগ্রভাবকে ধারণ করতে পারেনি। ‘পল্লিজননী’ কবিতায় এক দুঃখিনি মায়ের সন্ধান পাওয়া যায়। হতদরিদ্র এ মায়ের সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিন্তার শেষ থাকে না। সারারাত তিনি রুগ্ন সন্তানের শিয়রে বসে থাকেন। মনে মনে সন্তানের সুস্থতা কামনায় পীরের দরগায় মানত করেন। রাতের নীরবতা মায়ের মনে সন্তানের জন্য অশনি সংকেত দেয়, ফলে তার চোখে ঘুম আসে না। মূলত এর দ্বারা সন্তানের প্রতি মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে।

উদ্দীপকে পিতামাতার সন্তানের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা প্রকাশ পেয়েছে। পিতামাতা সন্তানকে পৃথিবীর রূপ-রসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। নিজেরা সকল যন্ত্রণা ভোগ করে সন্তানকে সুখে রাখেন। সন্তানের যেন কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখেন। মাতৃহীন খাদিজার মনে তাই মাকে হারানোর আক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়। মা বেঁচে থাকলে হয়তো তার কোনো দুঃখ-কষ্ট থাকত না। কেউ তাকে অবহেলা করতে পারত না।

উদ্দীপকে খাদিজার মাকে হারানোর কথা বলা হয়েছে। মাতৃহীনা খাদিজার মনে তাই স্নেহময়ী মাকে হারানোর আক্ষেপ দেখা যায়। তার মাঝে মায়ের ভালোবাসা পাবার প্রত্যাশা লক্ষ্য করা যায়। পাঠ্যকবিতায় মায়ের মৃত্যুর কোনো কথা নেই। বরং অসুস্থ সন্তানের জন্য মায়ের স্নেহকাতর দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। মা অসুস্থ ছেলের শিয়রে বসে রাত্রি জাগরণ করেছেন, পীরের দরগায় মানত করেছেন, আল্লাহ-রাসুলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। উপর্যুক্ত বিষয়গুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘পল্লিজননী’ কবিতার সমগ্রভাবকে ধারণ করতে সক্ষম হয়নি।