বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ২১:৩২

শহরে লকডাউন, গ্রামে জটলা

পাবনার জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন বলেন, ‘এত কিছুর পরও মানুষ নানা বাহানায় বাইরে বের হচ্ছে। মাস্ক ব্যবহারে অনীহা দেখা গেছে। তাদের জরিমানা করে সতর্ক করা হচ্ছে।’

ইত্তেফাক ডেস্ক

হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে রোগী প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালগুলোতে। এদিকে শহর এলাকায় লকডাউন কার্যকর করা হলেও তা মানা হচ্ছে না গ্রামাঞ্চলে। গ্রামে লকডাউন উপেক্ষা করে রীতিমতো জটলা করে বেড়াচ্ছেন অনেকে। খবর আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের : 

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) : লকডাউনের তৃতীয় দিন শনিবার ভাণ্ডারিয়া বাজারে সাপ্তাহিক হাটের দিন থাকায় জনসমাগম উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যায়। স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ উপজেলাবাসীকে সুরক্ষায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পৌরসভা, জাতীয় পার্টি-জেপির উদ্যোগে চলছে প্রচারণা ও মাইকিং। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার ভূমি মো. তৌহিদুল ইসলাম প্রচারণা মাইকিং করছেন। শুক্রবার বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ দোকানপাট খোলা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপাল রায় জানান, মানুষ সচেতন হলে এ অবস্থা দ্রুত কমে যাবে।

নেত্রকোনা : করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত পাঁচ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দুই শতাধিক। নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিয়া বলেন, ‘জেলায় শনিবার দুপুর পর্যন্ত ১ হাজার ৬৪৩ জন করোনায় আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে সুস্থ হন ১ হাজার ১৭৩ জন। আর মারা যান ৩০ জন। কলমাকান্দায় শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৭৮ জন ও দুর্গাপুরে ৬৯ জন রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছেন।’

পাবনা : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রকোপ আকার ধারণ করায় কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিনে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে শনিবার সকালে শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ সড়কে মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। দোকানপাট বন্ধ থাকলেও অনেককে সাটার বন্ধ করে বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। গ্রামে অনেককে বিভিন্ন স্থানে গ্যাদারিং করে বেড়াতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানায় অনীহা লোকজনের মধ্যে। জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘এত কিছুর পরও মানুষ নানা বাহানায় বাইরে বের হচ্ছে। মাস্ক ব্যবহারে অনীহা দেখা গেছে। তাদের জরিমানা করে সতর্ক করা হচ্ছে।’

ময়মনসিংহ : করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউনের তৃতীয় দিনেও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন ময়মনসিংহের প্রশাসন। শনিবার সকাল থেকেই নগরীতে দুই একটি অটোরিকশা ছাড়া তেমন কোনো যান চলাচল চোখে পড়েনি। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বের হওয়া ব্যক্তিগত যানবাহন থামিয়ে জরিমানার পাশাপাশি কারণ দর্শানো হচ্ছে। নির্দেশনা বাস্তবাায়নে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক।

বান্দরবান : লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে ১৮ সদস্যের রোভার-স্কাউট সদস্যরা। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুই শিফটে কাজ করছেন তারা। টিমের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। শহরের লোকজনকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য মাইকিংসহ প্রচারণা অব্যাহত আছে। ৩য় দিনের লকডাউনে শহরের রাস্তা-ঘাট ফাঁকা।

জয়পুরহাট : ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি আসার  হুইসেল শোনা মাত্র দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে এর ভেতরে অবস্থান করছেন ব্যবসায়ীরা। চলে যাওয়ার পরেই দোকান খোলা হচ্ছে। শুধু মেইন রোডের পাশের দোকানগুলো মূলত বন্ধ দেখা যাচ্ছে। কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঈশ্বরদী (পাবনা) : করোনা আক্রান্তে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে ঈশ্বরদীর অবস্থান। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত পাঁচ দিনে ঈশ্বরদীতে ৬১৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসমা খান শনিবার জানান, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে তিনটি কেবিনসহ মোট ১৬টি বেড নিয়ে করোনা ইউনিট রয়েছে। বর্তমানে চার জন করোনা রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছে। অন্যান্যরা বেশির ভাগই বাড়িতে চিকিত্সা নিচ্ছে। রোগীর চাহিদা বাড়লে অক্সিজেন সংকট দেখা দেবে।

কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) : ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গতকাল শনিবার ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০ জন শনাক্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার তালুকদার এ তথ্য জানান।

সদরপুর (ফরিদপুর) : দিন দিন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত পাঁচ দিনে ১১৮ জনের মধ্যে ৬৫ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। এখানকার জনগণ সচেতন না থাকায় ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে হাট-বাজার ও এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মোহাম্মদ ওমর ফয়সল শনাক্তের তথ্য নিশ্চিত করেন।

এছাড়া, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী, বগুড়ার আদমদীঘি, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া, বরিশালের আগৈলঝাড়া, মাগুরার শ্রীপুর, পাবনার চাটমোহর ও সুজানগর, নওগাঁর নিয়ামতপুর, ফরিদপুরের মধুখালীতে সংক্রমণরোধে লকডাউনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।