ই-কমার্স পেমেন্টের নীতিমালা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ২১:৪৯

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশের অন্তত ১০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে কেনাকাটায় নিজেদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেশ কিছু ব্যাংক। যেসব ব্যাংক এই বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তা তাদের নিজ উদ্যোগে করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে অনলাইনে কেনাকাটা বা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্যমূল্য ও সেবা মাশুল পরিশোধের বিষয়ে নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ এ নীতিমালা জারি করে।

দেশের সকল তপশিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রোভাইডার (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেমস অপারেটরের (পিএসও) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নীতিমালার কপি পাঠানো হয়েছে। নীতিমালায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য বা সেবামূল্য পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

নীতিমালায় বলা হয়, খাদ্য, মুদি, ওষুধ, রাইড শেয়ারিং, মোবাইল রিচার্জ, সার্ভিস ডেলিভারি বা ইউটিলিটি, শিক্ষা ফি, হোটেল বুকিং, টিকিটিং (বাস, এয়ার, ট্রেন, লঞ্চ) কিংবা অনুরূপ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জরুরি পণ্য বা সেবা সঙ্গে সঙ্গে বা অনধিক পাঁচ দিনের (পণ্যসেবার ধরণ ও স্থান বিবেচনায়) মধ্যে সরবরাহকারী ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরিশোধ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লেনদেনের ঝুঁকি, গ্রাহকসেবার মান, পণ্য সরবরাহ সম্পর্কে সন্তুষ্টি এবং পারস্পরিক ব্যাবসায়িক সম্পর্ক ইত্যাদি পর্যালোচনা করে স্বীয় বিবেচনায় বিদ্যমান সেটেলমেন্ট প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পারবে।

নিজস্ব উত্পাদিত পণ্যসেবা বা দোকান বা শোরুমের (এরূপ উদ্দেশ্যে ট্রেড লাইসেন্সপ্রাপ্ত) মাধ্যমে পণ্যসেবা বিক্রয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল কমার্স ব্যবস্থায়ও পণ্যসেবা বিক্রয় করে এবং বিক্রীত পণ্যসেবা সঙ্গে সঙ্গে বা অনধিক সাত দিনের (পণ্যসেবার ধরন ও স্থান বিবেচনায়) মধ্যে সরবরাহ করে থাকে এ ধরনের ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরিশোধ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লেনদেনের ঝুঁকি, গ্রাহকসেবার মান, পণ্যসেবা সরবরাহ সম্পর্কে সন্তুষ্টি এবং পারস্পরিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক ইত্যাদি পর্যালোচনা করে স্বীয় বিবেচনায় বিদ্যমান সেটেলমেন্ট প্রক্রিয়াও অব্যাহত রাখা যাবে।

এ দুই ধরনের ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে পরিশোধ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মার্চেন্ট পেমেন্টের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ নিজস্ব সেটেলমেন্ট হিসেবে ধারণ করবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঐ অর্থ ছাড়করণের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহককে পণ্যসেবা সরবরাহ বা প্রদানের পর অর্থ ছাড়করণের জন্য গ্রাহকের নাম, মোবাইল নম্বর এবং সরবরাহকৃত ক্রয়াদেশের বিবরণসহ এ-সংক্রান্ত একটি তালিকা ব্যাংক, পিএসও এবং ই-ওয়ালেট সেবা প্রদানকারী এমএফএস বা পিএসপি (পরিশোধ সেবাদানকারী) প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করবে।

ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত তালিকা থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে গ্রাহকের পণ্যসেবা প্রাপ্তির বিষয়ে সন্তুষ্ট হওয়া সাপেক্ষে পরিশোধ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অর্থ ছাড় এবং এ-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করবে।

ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পণ্যসেবা সরবরাহের বিপরীতে অর্থ ছাড়করণের জন্য দাবিকৃত তালিকার কোনো গ্রাহকের পণ্যসেবা সরবরাহ না হওয়ার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানকে ভুল তথ্য প্রদানের বিষয়ে পরিশোধ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সঙ্গে সঙ্গে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ প্রদান করবে এবং নোটিশপ্রাপ্তির অনধিক ১০ দিনের মধ্যে ঐ প্রতিষ্ঠানের জবাব দেওয়ার সময় নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নীতিমালা অনুযায়ী ভুল তথ্য প্রদানের বিষয়ে ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান সন্তোষজনক কারণ দেখাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ সেবা প্রদান স্থগিত এবং তালিকাভুক্ত করে পরিশোধ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। এ ধরনের তালিকাভুক্ত ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান পরবর্তী সময়ে সব ধরনের পরিশোধ সেবাপ্রাপ্তির যোগ্যতা হারাবে। ভবিষ্যতে অর্থ ছাড়করণের প্রক্রিয়াটি অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে পরিশোধ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্বীয় বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যেখানে গ্রাহক কর্তৃক পণ্যসেবা সরবরাহ প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান (মার্কেটপ্লেস) কর্তৃক ইস্যুকৃত ভাউচারের বিপরীতে পণ্য ক্রয়সেবা গ্রহণ না করা পর্যন্ত অর্থ ছাড় করা যাবে না। ভাউচার ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দাবিকৃত খরচের অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে সন্তুষ্ট হয়ে খরচের সমপরিমাণ অর্থ ছাড় করা যাবে। পরিশোধ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্রাহকের কাছ থেকে সংগৃহীত এরূপ অর্থ মার্চেন্ট দায় পরিশোধ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না উল্লেখ করে নীতিমালায় বলা হয়, অপরিশোধিত মার্চেন্ট দায়ের সমপরিমাণ অর্থ এই হিসাবে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। রিফান্ড বা চার্জব্যাকের ক্ষেত্রে গ্রাহকের পরিশোধিত মাধ্যমেই ঐ অর্থ ফেরত দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো চার্জ প্রযোজ্য হলে তা ডিজিটাল কমার্স সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বহন করবে।

জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা পরিপালনের জন্য পরিশোধ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কোনোরূপ চার্জ বা মাশুল আরোপ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া গ্রাহক কর্তৃক পণ্যসেবা প্রাপ্তির পর পরিশোধের বিদ্যমান ক্যাশ অন ডেলিভারি বা পেমেন্ট অন ডেলিভারি পদ্ধতি অব্যাহত থাকবে। ওপরের নির্দেশনাগুলো শুধু ব্যক্তি গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।