বিশ্বব্যাংকের স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনডেক্সে স্কোর মাত্র ৬০
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশের পরিসংখ্যানের মান আরো নিচে নেমে গেছে। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনডেস্ক অনুযায়ী ২০২০ সালের হিসাবে বাংলাদেশের স্কোর এসেছে ৬০। ২০১৪ সালে সর্বশেষ ৮০ স্কোর থাকার পর প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের পরিসংখ্যানের মান নেমে যাচ্ছে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে স্কোর ছিল ৬২ দশমিক ২।
তথ্যসূত্র ও উত্স, পদ্ধতি ও সময়কাল—এই তিন বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে স্ট্যাটিসটিক্যাল ক্যাপাসিটি মূল্যায়ন করে বিশ্বব্যাংক। এক্ষেত্রে ২৫টি মানদণ্ডের বিপরীতে গড় স্কোর (১০০) নির্ধারণ করে সংস্থাটি। দক্ষিণ এশিয়ায় গড় স্কোর হলো ৬৯ দশমিক ৮। অর্থাত্, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা অনেক নিচে। শুধু আফগানিস্তানের (স্কোর ৫৭ দশমিক ৮) ওপরে রয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের স্কোর এসেছে ৭৬ দশমিক ৭। মূলত তথ্যের উত্স দুর্বলতা, মান, নির্ভুলতা ও নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশ করতে না পারার কারণেই ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের তথ্যের মান দুর্বল হচ্ছে বলে বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রশ্ন তুলছে কয়েক বছর ধরেই। বিশেষ করে করোনার এই সময়ে দেশের দরদ্রি পরিস্থিতি, কর্মসংস্থানে কী প্রভাব পড়েছে সে বিষয়ে বিবিএস কোনো তথ্যই দেয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে হিসাব করলেও ২০১৯-২০ অর্থবছরের মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির চূড়ান্ত হিসাব এখনো দিতে পারেনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সদ্য বিদায়ী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক হিসাবও সরকারি এই সংস্থা দিতে পারেনি। দেশের কর্মসংস্থান, বেকারত্বের হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। এজন্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর মান কমে গেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। বিশ্বব্যাংকের এই স্কোর তৈরিতে দেশের বিভিন্ন খাতের তথ্যের সরবরাহ ও পদ্ধতি, সময়—এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান সূচক যেমন জিডিপির হিসাব, কর্মসংস্থানের হিসাব, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিসংখ্যান, দরিদ্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজস্ব ও মুদ্রানীতিবিষয়ক তথ্য, বাজেট, ব্যালান্স অব পেমেন্ট, সব বিভাগের আর্থসামাজিক তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। বাংলাদেশে এর বেশির ভাগই হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ট্যাটিসটিক্যাল ক্যাপাসিটি স্কোরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সমান ৬০ স্কোর ভুটানের। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার ৮০, পাকিস্তান ও নেপালের ৭২ দশমিক ২২।
