শিক্ষিকার স্বামী-পুত্রকে অভিযুক্ত করে অবশেষে আদালতে মামলা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ২২:১০

ফলোআপ

ওসমানীনগরে শিক্ষিকা ও গৃহকর্মীর মৃত্যু

শিপন আহমদ, ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা

সিলেটের ওসমানীনগরে নিজ গৃহের মেঝে থেকে শিক্ষিকার বিবস্ত্র গলাকাটা লাশ ও একই ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহকর্মী গৌরাঙ্গ সরকারের লাশ উদ্ধারের ৯ দিন পর আদালতে মামলা হয়েছে। গত ৩০ জুন শিক্ষিকার স্বামী ডা. বিজয় ভুষন দেব ও পুত্র তন্ময় দে বিপ্লবকে অভিযুক্ত করে সিলেটের সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নিহত গৃহকর্মীর ভাই বিশ্বনাথের দশঘর গ্রামের জহর লাল সরকারের পুত্র মরচান সরকার।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, শিক্ষিকা জোরপূর্বক গৃহকর্মী গৌরাঙ্গের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। দীর্ঘদিন ধরে চাপের মাধ্যমে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি অবহিত করে সে আর ঐ শিক্ষিকার বাড়িতে কাজে থাকবে না বলে পরিবারকে জানায় গৃহকর্মী গৌরাঙ্গ। ঘটনার দিন বিকালে শিক্ষিকা গৃহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বনাথস্থ দশঘর গ্রামে গিয়ে পরিবারের কাছে গৃহকর্মীর সঙ্গে বিয়ের দাবি জানালে গৌরাঙ্গের পরিবার তাতে রাজি হয়নি। একই দিন বিকাল ৪টায় গৌরাঙ্গকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন শিক্ষিকা তাপতি দে লাভলী। ঐ দিন রাত ১১টায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গৌরাঙ্গ ও শিক্ষিকা নিখোঁজের খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে গৃহকর্মীর বড় ভাই মরচান শিক্ষিকার বাড়িতে এসে মরদেহ দেখতে পান। এ সময় শিক্ষিকার স্বামী ও পুত্র মিলে হুমকিধমকি দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হলেও থানা পুলিশের মূল রহস্য বের করতে না পারা নিয়ে সর্বমহলে দেখা দিয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। খুনের পেছনের কারণ জানতে শিক্ষিকার সহকর্মীবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন ঝড় তুলছেন সোশ্যাল মিডিয়ার। এলাকার বিজ্ঞজনদের দাবি, যেভাবে সহজ ভাষায় শুধু নিহত গৃহকর্মীর ওপর শিক্ষিকা খুনের দায় চাপিয়ে সংশ্লিষ্টরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন, বিষয়টি এত সহজ নয়। তারা শিক্ষিকাসহ গৃহকর্মীর মৃত্যুর পেছনের রহস্য খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন।