বইমেলায় বিশেষ চমক শফিকুর রহমান শান্তনু’র ‘গবলিন’

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৪৯

দেখতে দেখতে চতুর্থ দিনে পা দিলো অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৯। ইতোমধ্যেই নতুন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শুরু হয়েছে। শত শত বইয়ের ভিড়ে চমক হিসেবে এসেছে এসময়ের জননন্দিন নাট্যকার শফিকুর রহমান শান্তনুর থ্রিলার ও পিশাচ কাহিনি নির্ভর বই ‘গবলিন’।

 

বইটি সম্পর্কে লেখক বলেন, ‘গবলিন আমাদের সময় ও সমাজের গল্প। তাই প্রথাগত পিশাচ কাহিনি একে বলা যাবে না। প্রতিটি মানুষের মধ্যে একটা পিশাচ বাস করে। কখনো সেই পিশাচ বেরিয়ে আসে। কখনো আসে না। এই গল্প মানুষের ভেতর থেকে সেই বেরিয়ে আসা পিশাচের।’

 

গবলিন প্রকাশ করেছে স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা তাম্রলিপি। বইমেলায় তাম্রলিপির ১৪ নং প্যাভেলিয়নে বইটি পাওয়া যাচ্ছে। একইসাথে সারাদেশের পাঠকদের সুবিধার জন্যে রকমারি ডট কমেও বইটি পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই গবলিন নিয়ে পাঠক মহলে যথেষ্ট সাড়া পাওয়া গেছে। তাই আশা করা যায়, বইমেলার একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে গবলিন পরিগনিত হবে।

 

গবলিনের কাহিনি সংক্ষেপ অনেকটা এরকম— সবারই একটা পড়ে যাওয়ার গল্প থাকে। কেউ হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটা শিখতে গিয়ে পড়ে যায়! কেউ ছত্রিশতলার ছাঁদে দাঁড়িয়ে ভাবে, চাইলেই ধরা যায় সপ্তর্ষিমন্ডল! যত উঁচুতেই ওঠা যায় না কেন, পড়ে যাওয়ার ভয় তাই অন্তহীন পিছু তাড়া করে ফেরে। সবারই একটা উঠে দাঁড়াবার গল্প থাকে। কেউ সারাজীবন শুধু একটা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে জানে! কেউ চোরাবালি ভেদ করে দাঁড়িয়ে যায় হিমালয়ের মত! যত নিচেই থাকুক না কেন, উঠে দাঁড়াবার স্বপ্নটা তাই বাঁচিয়ে রাখে মানুষকে! এই পড়ে যাওয়া আর উঠে দাঁড়াবার বাইরে কোন গল্প নেই। বাইরে থাকে কেবল রহস্যময়ী আঁঁধার। গবলিন সেই গা শিউরে ওঠা আঁঁধারের গল্প। যেখানে আছে লালসা, যৌনতা, অনৈতিকতা ও কিছু ভুল সিদ্ধান্ত! হয়তো মানুষ মাঝেমধ্যে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বলেই জীবন এত বৈচিত্র্যময়!

 

বই থেকে কিছু অংশ এখানে তুলে দেয়া হল :

‘... একদিন আমাদের বাসায় তিনি এক ভদ্রলোককে নিয়ে এলেন। ভদ্রলোক ইয়া মোটা। হাঁটলে মনে হয় বাড়িতে ভূমিকম্প হচ্ছে। তিনি যে সোফায় বসলেন, আমাদের আশংকা হলো, সোফাটা বুঝি ভেঙে পড়বে। আমরা বলতে আমি আর আমার মায়ের কথা বলছি। মা আঁঁচলে মুখ চেপে বললেন, সোফাটার বয়সতো কম হলো না। ভেঙে পড়লে কেলেংকারি কান্ড হবে।

বাবা আমাকে ডেকে বললেন, ইনি হচ্ছেন তোমার মাস্টার। এখন থেকে এ বাড়িতে থাকবেন।

আমি লোকটার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ি। মানুষের গলা বলতে যা বোঝায়, তা লোকটার নেই। মনে হয় মাথাটা সরাসরি কাঁধের সাথে ফিট করে দেয়া হয়েছে। বাবা আমার দিকে কঠিন চোখ করে বললেন, বেয়াদপের মতো হাসছ কেন? মাস্টার সাহেবকে সালাম দাও।

আমি সালাম দিলাম। লোকটি লাজুক ধরনের মৃদু হাসি দিয়ে সালামের প্রত্যুত্তর দিলেন। সাথে সাথে এই লজিং মাস্টার সাহেবকে আমার পছন্দ হয়ে গেল। তবে মার পছন্দ হলো না। তিনি বাবাকে ভেতরে ডেকে নিয়ে বললেন, এই হাতি মাস্টারকে এক্ষুনি বিদায় কর।

মা’র প্রবল অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমার লজিং মাস্টার সাহেব বাসায় থেকে গেলেন।

.. এক রাতের ঘটনা। হঠাত্ ঘুম ভেঙে গেল। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। কেন জানি আমার একটু ভয় ভয় করতে লাগল। তখন দেখি বাইরের বারান্দায় বাবা একটা চেয়ারে গুম হয়ে বসে আছে। বারান্দা থেকে লজিং স্যারের ঘরটা দেখা যেত। বাবা সেই ঘরের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন।

.. সে রাতটা সত্যিই ভয়ংকর ছিল। সকালে আমার ঘুম ভাঙে কাজের বুয়ার চিত্কারে। বাবাকে কেউ বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে রেখে গেছে। মা আর লজিং স্যার উধাও। বাবার মাথার উপরে কয়েকটা নীল মাছি ওড়াওড়ি করছে। চোখ দুটো খোলা। মুখভর্তি সাদা ফেনা। সেই প্রথম আমার মৃতদেহ দেখা। আমাদের সেরকম কোন আত্মীয় স্বজন ছিল না। তাই কান্নাকাটির মানুষ বলতে এক কাজের বুয়াই। সেও কেঁদে কেঁদে একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ল। আমার স্থান হলো এতিম খানায়।’

 

ইত্তেফাক/এএম