কমলগঞ্জ ভূমি অফিসে হয়রানির অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ২২:১১

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে সেবা গ্রহীতারা হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সেবা গ্রহীতারা অভিযোগ করেন, ডিসিআরসহ ভিপি মামলায় বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে কৌশলে নামজারিসহ বিভিন্ন মামলার ফাইল বাতিল করা হচ্ছে। পরে দালাল চক্রের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে নামজারি করে নিতে হচ্ছে। অফিসের একটি চক্র এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

উপজেলার আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার ইউনিয়নের জনসাধারণ ভূমি অফিসে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ইউনিয়ন থেকে উত্তরাধিকারী সনদ দেওয়ার পরও ভূমি অফিসে রহস্যজনক কারণে সে সনদ গ্রহণ না করে আদালত থেকে সনদ আনতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় ৯৮ শতাংশ উত্তরাধিকারী সনদেই খারিজ হচ্ছে। অথচ খারিজি ফাইলে ত্রুটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করে আদালত থেকে সাকসেশন সনদ সংগ্রহের বিষয়টি রহস্যজনক। এভাবে একজন সেবা গ্রহীতাদের বাধ্য হয়েই বিকল্প পন্থা অবলম্বন করতে হয়। 

শমশেরনগরে বসবাসরত কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ইউসুফ আলী অভিযোগ করে বলেন, আমার নাতি আজিজুর রহমান প্রবাসে থাকে। সে শমশেরনগরে ৮ শতক জমি কিনে। তিন মাস আগে সেগুলো সাবরেজিস্ট্রি করার পর নামজারি করতে ভূমি অফিসে যাই। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, খরিদদারকে থাকতে হবে। পরে তিনি এই নামজারি বাতিল করে দেন। পরে একজন দালালের মাধ্যমে ৭ হাজার টাকায় সেই নামজারি করানো সম্ভব হয়েছে। 

উপজেলার দুই জন সেবা গ্রহীতা বলেন, কমলগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি মামলায় সবকিছু সঠিক থাকার পরও তাদের চাহিদা মতো টাকা না দিলে ফাইল নড়ে না। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে কাজ সারিয়ে নিতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মচারী জানান, অফিসের নাজির একটি ডিসিআর কাটতে যেখানে ১ হাজার ১৫০ টাকা নেওয়ার কথা, সেখানে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা না দিলে তিনি ডিসিআরই কাটতে রাজি নন। তবে অভিযোগের বিষয়ে ভূমি অফিসের নাজির মোছা: সোনিয়া বলেন, কারো কাছ থেকে টাকা বেশি নেওয়া হয়নি। যা ফি তাই নেওয়া হচ্ছে। এ রকম কেউ এসে বলতে পারবে না।

কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরী বলেন, এ রকম কোনো অভিযোগ শুনি নাই। তবে আদমপুর ইউনিয়নের একটি নামজারি মামলা বাতিল করা হয়েছে। চেয়ারম্যান সাহেবকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পরও তিনি সম্ভবত পরিষ্কার বুঝতে পারেননি। তাছাড়া ডিসিআর, ভিপি মামলায় টাকা নেওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকে আর অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মল্লিকা দে বলেন, উত্তরাধিকারী সনদ দুই ধরনের হয়ে থাকে। সে বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলতে পারেন। আর সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি ও টাকা আদায়ের বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে আমার কাছে অসলে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।