কারাগারে ফেরত আনা হলো ডেসটিনির রফিকুল আমীনকে

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ২২:৫২

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেল থেকে জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষকে উচ্চ ডায়াবেটিসের কারণ দেখিয়ে ৮২ দিন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন থাকার পর গতকাল শনিবার বিকাল ৪টার দিকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ থেকে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছর চার মাস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন রফিকুল। সে সময় কারা কর্তৃপক্ষ ২৭ বার চিঠি দেওয়ার পর চরম বিতর্কের মুখে তাকে কারাগারে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়েছিল বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। এবারও বাধ্য হয়েই তাকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হলো।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ বলেন, ‘অতিমাত্রায় ডায়াবেটিস থাকায় গত ১১ এপ্রিল রফিকুল আমীনকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর তাকে ফেরত চেয়ে পাঁচ বার চিঠি দেওয়া হলেও ফেরত দেওয়া হয়নি। উলটো তার ডায়াবেটিসসহ হার্ট, কিডনি ও অর্থোপেডিকস চিকিত্সা চলছে বলে জানতে পারি। এরই মধ্যে হাসপাতালের প্রিজন সেলে থেকে তার জুম মিটিংয়ে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে গতকাল বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দিলে  কারাগারে আনা হয়।’

সিনিয়র জেল সুপার আরো বলেন, করোনার কারণে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখার নিয়ম। কিন্তু রফিকুল আমীন কারাগারের যে সেলে থাকেন, সেখানে আর কেউ থাকেন না। ফলে তাকে সরাসরি সেলেই রাখা হবে। কারাবিধি লঙ্ঘন করায় কী ধরনের শাস্তি ভোগ করতে হবে রফিকুলের—এমন প্রশ্নের জবাবে সুভাষ কুমার ঘোষ বলেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, কাগজে-কলমে কিংবা চিকিত্সকের প্রেসক্রিপশনে ‘অসুস্থ’ রফিকুল আমীন হাসপাতালে থেকে দিব্যি ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন। মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যবহার করে জুম অ্যাপে নিয়মিত মিটিংও করেছেন, যার একাধিক ভিডিও গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। এর একটি এ বছরের মে মাসের এবং আরেকটি জুন মাসের। ভিডিওতে দেখা গেছে, রফিকুল আমিন ডেসটিনির মতোই নতুন আরেকটি এমএলএম ব্যবসার বিষয়ে আলোচনা করছেন। ইতিমধ্যে সেই ব্যবসা শুরুও করেছেন তিনি। ব্যবসার জন্য শিগিগর ১ হাজার ৩০০ মার্কেটিং এজেন্ট নিয়োগের কথা বলেছেন। এ ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার চার প্রধান কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ১৩ জন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীন এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে দুটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঐ বছরের ১১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে ৪ হাজার ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাত্ এবং ৯৬ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।