অর্থবছরের শুরুতেই কৃচ্ছ্র সাধনের পথে সরকার

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ২২:৫৩

আলাউদ্দিন চৌধুরী

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছে সরকার। শুরুতেই সরকারি ভ্রমণ ব্যয় ও যানবাহন ক্রয়ে বরাদ্দের ৫০ ভাগ স্থগিত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এ বছরও বাজেট ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়। বিদায়ি ২০২০-২১ অর্থবছরে ভ্রমণ খাত থেকে ৫০ শতাংশ, সরকারি গাড়ি কেনাকাটার পুরো অংশ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ১৫ শতাংশ ব্যয় স্থগিত করা হয়েছিল। এবার নতুন অর্থবছরের শুরুতে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সব প্রকার যানবাহন ক্রয়ের ব্যয় সীমিতকরণের পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এতে বলা হয়েছে, চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতির আলোকে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ২০২১-২২ অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সব প্রকার নতুন/প্রতিস্থাপক যানবাহন ক্রয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের সর্বোচ্চ ৫০ ভাগ ব্যয় করা               যাবে। অন্য এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, নতুন অর্থবছরের সব প্রকার রুটিন-ভ্রমণ পরিহার করতে হবে। সরকারি ভ্রমণের ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫০ ভাগ বরাদ্দ স্থগিত থাকবে। শুধু জরুরি ও অপরিহার্য ক্ষেত্র বিবেচনায় ভ্রমণ ব্যয় খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা যাবে।

সম্প্রতি করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। অর্থবছরটি শুরু হলো স্থবিরতার মধ্য দিয়ে। ব্যয় সাশ্রয় করতে গত অর্থবছরের শেষ তিন মাস নতুন কোনো পূর্তকাজ না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেসময় শুধু চলমান প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। করোনার প্রভাবে রাজস্ব আদায়ে যেমনি বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তেমনি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।

জাতীয় সংসদে গত বুধবার ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট পাশ করা হয়েছে। এই ব্যয় মেটাতে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদায়ি অর্থবছরেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ২০২০-২১ অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। সেই লক্ষ্য পরবর্তী সময়ে ২৬ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা হ্রাস করে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৩২ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়। অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আদায় করতে পেরেছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে করোনার প্রভাবে দেশের রাজস্ব আদায়ে যে ধাক্কা লেগেছে এটা স্পস্ট। এদিকে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা চলমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফলে নতুন অর্থবছরেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে শঙ্কা রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী দিনগুলোতে ব্যয় সাশ্রয় করতে আরো কিছু উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। গত অর্থবছরের মতো এবারও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে কিছু অংশ অর্থ ব্যয়ের ওপর স্থগিতাদেশ আসতে পারে।