নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণে ইসিকে বিধি করার ক্ষমতা দিতে সংসদে বিল

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ২২:৫৪

ইত্তেফাক রিপোর্ট

নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আইনের অধীনে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দিয়ে গতকাল শনিবার সংসদে ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ বিল-২০২১’ উত্থাপিত হয়েছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি সংসদে তোলেন। পরে বিলটি ৬০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী সংসদকে জানিয়েছেন, এটা আইনে পরিণত হলে জাতীয় সংসদের একক আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ কাজ সুচারুরূপে সম্পাদন করা সম্ভব হবে। উত্থাপিত বিলের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, ইসির সীমানা নির্ধারণের বিষয় নিয়ে দেশের কোনো আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন তোলা যাবে না। সামরিক সরকারের অধীনে জারি করা সব আইনের বৈধতা দেওয়া সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং বাংলায় আইন করতেই মূলত বিলটি আনা হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।

তবে সামরিক সরকারের আমলে জারি হওয়া ‘দ্য ডিলিমিটেশন অব কন্সটিটিউয়েন্সিস অর্ডিনেন্স’—এর সংশোধন করতে ইসির প্রস্তাবগুলো আমলে নেওয়া হয়নি। এই আইন কার্যকর হলে ১৯৭৬ সালের ওই ‘অর্ডিনেন্স’ রহিত হবে। বিদ্যমান আইনের আটটি ধারার স্থলে উত্থাপিত বিলটিতে ৯টি ধারার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন ধারাটিতে               ইসিকে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যামান আইনে নেই। বিলে আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের ৬৫(২) অনুচ্ছেদে উল্লিখিত সংখ্যক সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে পুরো দেশকে উক্ত সংখ্যক একক আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকায় ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং আদমশুমারির ভিত্তিতে যতদূর সম্ভব বাস্তবভিত্তিক বণ্টনের কথা বলা হয়েছে।

বিলটিতে বিদ্যমান আইনের ৮ নম্বর ধারায় একটি উপধারা যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা আছে, ‘দৈব-দুর্বিপাকে বা অন্য কোনো কারণে আঞ্চলিক সীমানা নির্ধারণ করা না গেলে বিদ্যমান সীমানার আলোকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে বর্তমান ইসি দায়িত্ব নিয়ে বিদ্যমান আইনগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। একাদশ জাতীয় সংসদের আগে নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইনটি সংস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে সেটা না হওয়ায় বিদ্যমান আইনেই সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ঐ নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। পরে ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে পাঠায় ইসি। খসড়ায় বিদ্যমান জনসংখ্যা কোটার ভিত্তিতে আসন বণ্টনের সঙ্গে ভোটার সংখ্যা ?যুক্ত করার প্রস্তাব করে ইসি। এছাড়া সিটি করপোরেশন, বড় বড় শহরের ও পল্লি এলাকার ভারসাম্য রক্ষার কথাও বলা হয় ইসির প্রস্তাবে। খসড়ায় ইসি জনসংখ্যার কোটা নামে একটি উপধারাও যুক্ত করার প্রস্তাব করেছিল।

সংবিধান ও সীমানা নির্ধারণ আইন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সংবিধানের ১১৯ (গ) অনুচ্ছেদে ইসিকে সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। ১২৪ অনুচ্ছেদে ইসিকে ‘সংসদ আইনের দ্বারা নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ’ করার কথা বলা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ‘সংসদ নির্বাচন এলাকা সীমানা নির্ধারণ বিধান অধ্যাদেশ-১৯৭৬’ জারি করা হয়। এর পর থেকে এই অধ্যাদেশের বলেই সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস হয়ে আসছে।

নোয়াখালীর জয়াগের গান্ধী আশ্রম পরিচালনায় বিল

নোয়াখালীর জয়াগে স্থাপিত গান্ধী আশ্রম পরিচালনায় পুরোনো আইন বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়নে গতকাল সংসদে ‘গান্ধী আশ্রম (ট্রাস্টি বোর্ড) বিল-২০২১’ উত্থাপিত হয়েছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি ৬০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।