যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে এসেছে ৪৫ লাখ টিকা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ২২:৫৪

দেশে গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে চারটি ফ্লাইটে ৪৫ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত টিকা বহনকারী এসব ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় প্রথম চালানে কোভ্যাক্সের              আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে মডার্নার সাড়ে ১২ লাখ টিকা ঢাকায় আসে। টিকাগুলো নিয়ে এমির্যাটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পররাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ অন্য কর্মকর্তারা এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। এরপর গতকাল সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে মডার্নার আরো ১২ লাখ ৬৭ হাজার ২০০ ডোজ টিকা বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দুই চালানে মডার্নার ২৫ লাখ ডোজ টিকা এসেছে।

অন্যদিকে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় চীনের বেইজিং থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে সিনোফার্মের ১০ লাখ ডোজ টিকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ছাড়াও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশ বিমানের আরেকটি বিশেষ ফ্লাইটে চীন থেকে সিনোফার্মের আরো ১০ লাখ ডোজ টিকা এসে পৌঁছায়। দুই ফ্লাইটে মোট ২০ লাখ ডোজ টিকা ঢাকায় এসেছে চীন থেকে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে ৪৫ লাখ ডোজ টিকা এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা এসেছে উপহার হিসেবে। আর চীন থেকে টিকা কেনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশের পাশাপাশি এশিয়ার ১৮টি দেশকে টিকার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ১ কোটি ৬০ লাখ ডোজ করোনার টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে বাংলাদেশে মর্ডানার টিকার আসার পর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার বলেছেন, আমেরিকান জনগণ টিকাগুলো উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে পাঠিয়েছে। আমরা একটি মাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে টিকাগুলো বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি, সেই উদ্দেশ্যটি হলো—মানুষের জীবন বাঁচানো। আমেরিকানরা সবসময় মানুষের প্রয়োজনে ও বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সহায়তার ক্ষেত্রে বৃহত্তম দাতা দেশ। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি সহায়তা দিয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক টিকাদান প্রচেষ্টার সাফল্যের জন্য কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বছরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিশ্বের মানুষের জন্য নিজেদের সরবরাহ থেকে কমপক্ষে ৮ কোটি ডোজ টিকা অনুদানের ঘোষণা করেছিলেন। এছাড়াও কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজার টিকার ৫০ কোটি ডোজ বিশ্বের দেশগুলোতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বরাদ্দ করা হবে।