বিড়ালছানা বাঁচাতে খোলা হলো হাসপাতাল

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ২২:৫৪

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

সরকারি ছুটি। এর ওপর কঠোর লকডাউন। সবকিছু মিলিয়ে বন্ধ রয়েছে পশু হাসপাতাল। তবু একটি বিড়াল ছানা বাঁচাতে তত্পর হয়ে উঠলেন চিকিত্সক। গতকাল শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সৈয়দ নিলমের পোষা বিড়াল ছানা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে নেওয়া হলো পশু হাসপাতালে। সব বন্ধ চারিদিকে। তবে খবর পেয়ে ছুটে এলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হক।

চিকিত্সক রাশেদ জানান, লকডাউন আর সরকারি ছুটি মিলিয়ে আমাদের দপ্তর বন্ধ রয়েছে। কিন্তু জরুরি সেবা তো থেমে থাকে না। খবর পেলাম নিলমের পোষা বিড়ালটি দুই দিন ধরে অসুস্থ হয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। প্রিয় প্রাণীর অসহায় মুখ দেখে কাঁদছে নিলম। তাই আর বসে থাকতে পারলাম না। সকালেই খুলে দেওয়া হলো হাসপাতাল। এর আগেই নিলম ও তার বড় বোন এসে হাজির। তাই দেখে বিড়াল ছানাটি দ্রুত নেওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। তিনি বলেন, বিড়াল ছানাটির ডান বাহুতে আঘাত লেগেছিল। এতে ইনফেকশন হয়ে যায়। ফলে যন্ত্রণায় কাতর ছিল বিড়ালটি। অপারেশন করে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয়েছে। এখন পুরো সুস্থ নিলমের প্রিয় বিড়াল।

নিলম হাজি দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। বাঁশবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী মো. আতিকুজ্জামান মুন্নার ছোট মেয়ে। নিলম বলেন, আমি বিড়ালটিকে সন্তানের মতো লালনপালন করেছি। ওর কষ্ট দেখে নিজেও কষ্ট পেয়েছি। দুদিন ধরে বিড়ালটি নিয়ে অনেক ধকল গেছে। ওর অসহায় মুখ দেখে আমাদের খাওয়াদাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পশু চিকিত্সকের মানবিক গুণে মুগ্ধ তিনি। এজন্য চিকিত্সকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।