কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে প্রকাশ্যে শাহজাহান বিলাস নামের এক কয়েদিকে (নং-৭১৫১/এ) পিঠমোড়া করে বেঁধে বেধড়ক পিটিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হয়ে গেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউটিউব ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। নির্যাতনের শিকার ঐ কারাবন্দি ভারতের পশ্চিম ত্রিপুরা রাজ্যের দুর্গাপুর গ্রামের আবদু মিয়ার ছেলে।
এদিকে একজন কারাবন্দিকে অমানবিকভাবে নির্যাতনের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আজ (রবিবার) সকাল ১০টা থেকে তদন্ত কাজ শুরু করবে। এছাড়া এ ঘটনায় প্রধান কারারক্ষীসহ তিন জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। দুই কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
কারাগার সূত্র জানায়, শাহজাহান বিলাস (৪৮) ডাকাতি এবং হত্যা মামলায় ৫৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি গত ২৬ বছর ধরে কুমিল্লা কারাগারে আছেন। গত ১৫ এপ্রিল তার ওয়ার্ডে তল্লাশি চালায় কারারক্ষীরা। এসময় এক পুড়িয়া গাঁজা, ১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৬০০ টাকাসহ কারারক্ষীদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। এ ঘটনায় গত ১২ মে জেল সুপার শাহজাহানকে কেস টেবিলের সামনে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় তাকে কয়েক জন মিলে মারধর করেন। পরে ঐ মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় ।
পাঁচ মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের ঐ ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শাহজাহান বিলাসকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তার দুই হাত পিঠমোড়া করে বেঁধে মাটিতে কখনো উপুড় করে, কখনো বসিয়ে ও লাথি মেরে ফেলে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হচ্ছে। এ সময় পাশে ছিলেন কারাগারের সুপার ও জেলারসহ বেশ কয়েক জন কারারক্ষী ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দি।
সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে বন্দি বিলাসকে নির্যাতনের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাকে কারাগারের হাসপাতালে নিয়ে চিকিত্সা দেওয়া হয়। এদিকে নির্যাতনের ভিডিওটি ভাইরাল করার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লা কারাগারের প্রধান কারারক্ষী মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, কারারক্ষী অনন্ত চন্দ্র দাস ও চয়ন দাসকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়ার পরদিন শুক্রবার অনন্ত চন্দ্র দাস কারাগারের ব্যারাকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে। এর আগে ঐ ঘটনার দিনই (১২ মে) কারারক্ষী দিদারুল আলম ও শাহ নেয়াজের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল শনিবার দুপুরে কারাগারের সিনিয়র সুপার শাহজাহান আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বন্দি শাহজাহান বিলাস বেসামাল আচরণ করায় তাকে কেস টেবিলে এনে লঘু শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঐ সময় তাকে পেটানোর ঘটনায় তাত্ক্ষণিভাবে দুই জন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
