অবশেষে স্বপ্নের পথে পা দিতে পারল ডেনমার্ক। ২০০৪ সালে পর্তুগালে ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে এই চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। ডেনিশরা আবার ইউরোর সেমিফাইনালে উঠল। সেই চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে জয় নিয়ে। প্রতিশোধ এবং সেমিফাইনালে ওঠা, দুটোই এক সঙ্গে হয়ে গেল ডেনমার্কের। গতকাল রাতে আজারবাইজানের বাকুতে ইউরোর তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে ডেনমার্ক ২-১ গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারায় এবং আগামী ৭ জুলাই লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের টিকিট তুলে নেয়। ১৯৯২ সালে ইউরোতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ডেনমার্ক।
শক্তিশালী চেক প্রজাতন্ত্র মাঠে নেমেই বড় ধাক্কা খেয়েছে ডেনমার্কের বিপক্ষে। চেকরা বুঝতেই পারেনি ডেনিশরা চোখের পলকে ডেডবলে গোল করবে ৫ মিনিটেই। স্ট্রাইকার লারসেনের কর্নারের বলটা মাথা লাগিয়ে থমাস ডেলানে গোল করেন ১-০। এই ধাক্কা সামাল দিয়ে উঠতে না উঠতেই ৪১ মিনিটে আবার চেকদের জালে ডেনিশদের গোল। জোয়াকিম মাহেলের ক্রস থেকে ডলবার্গ বলটা অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ করে ঠান্ডা মাথায় ডান পায়ে গোল করেন ২-০।
ডেনমার্কের কাছে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা চেক প্রজাতন্ত্রের কোচ জারোস্লাভ সিলহেভি দুই জন ফুটবলার পরিবর্তন করে ছক বদলে দেন। আর তাতেই টনিকের মতো কাজে লেগে যায় সিদ্ধান্ত। মাঠে নেমেই গোল পায় চেক প্রজাতন্ত্র। স্ট্রাইকার প্যাত্রিক শিক গোল করেন ১-২। গোলের সঙ্গে সঙ্গে এই ফুটবলার ছুঁয়ে ফেলেন সেই পুরোনো রেকর্ড। ২০০৪ সালে ইউরোতে চেকেরই এক ফুটবলার মিলান বারোস ৫ গোল করে রেকর্ড গড়েছিলেন। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে চেক প্রজাতন্ত্র ৩-০ গোলে ডেনমার্ককে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গ্রিসের কাছে হেরে গেলেও এই মিলান বারোস ৫ গোল করার কারণে সোনার বুট পেয়েছিলেন। সেই বারোসের পাশে বসলেন তার উত্তরসূরি প্যাত্রিক শিক। শুধু তাই নয়, চলতি ইউরোতে পর্তুগিজ তারকা রোনালদো ৫ গোলে একাই শীর্ষে ছিলেন। প্যাত্রিক শিক রোনালদোকেও ছুঁয়ে ফেলেছেন।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে চেকরা অনেক চেষ্টা করেও আর গোলের দেখা পায়নি। কৌশলী ডেনিশ কোচ কসপার হিউলমান্ড রক্ষণে জাল বিছিয়ে দিলেন। সেটাকে এক ফোটা ছিদ্র হতে দেয়নি ভেস্তারগার্ড, কেজার, ক্রিস্টেনসেনরা।
