ঐতিহ্য

মোঘল স্থাপনা ঘাঘড়া লস্কর মসজিদ

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ২০:১০

নূরে আলম সিদ্দিকী শান্ত

বাংলাদেশের শেরপুর জেলায় অবস্থিত ঘাঘড়া লস্কর খান মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন। মোঘল আমলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। ঝিনাইগাতি উপজেলার ঘাঘড়া লস্কর গ্রামে মসজিদটি মোঘল স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে এখনো সগর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। গ্রামের নাম অনুসারেই মসজিদটি ঘাঘড়া লস্কর খান বাড়ি জামে মসজিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

মসজিদের গায়ের নিদর্শন থেকে ধারণা করা হয় মোঘল আমলে বক্সার বিদ্রোহী নেতা হিরঙ্গী খানের সময়ে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। আজিমোল্লাহ খান মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন বলে ধারণা করা হয়। মসজিদটি একটি গম্বুজের উপর নির্মাণ করা হয়েছে। গম্বুজটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ৩০ ফুট। মাঝখানের বড় গম্বুজ ঘিরে চারপাশে রয়েছে ছোটবড় দশটি মিনার। মসজিদের উত্তর এবং দক্ষিণ পাশে দুইটি জানালা রয়েছে। ভিতরে রয়েছে দুটি সুদৃঢ় খিলান। পূর্বদিকে রয়েছে একটি দরজা। ভিতরে মেহরাব ও দেয়ালে বিভিন্ন রঙের ও কারুকার্য করা ফুল ও ফুলদানি আঁকা আছে। চার ফুট প্রশস্ত দেয়াল গাঁথা হয়েছে চুন ও সুরকি দিয়ে। মসজিদের ভিতর তিন কাতারে ৩০ জন মুসল্লি ইমামের পিছনে নামাজ পড়তে পারেন।

এছাড়া খোলা বারান্দা চত্বরেও ১০০ জন নামাজ আদায় করে পারেন। মসজিদটি মোট ৫৮ শতাংশ জমির উপর অবস্থিত। মূল ভবন ও বারান্দা ১৭ শতাংশ এবং বাকী ৪১ শতাংশ জায়গায় কবরস্থান। এক গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদের নির্মাণ কৌশলে গ্রীক ও কোরিন থিয়ান রীতির প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নতত্বিক স্থাপনা।

১৯৯৯ সালে মসজিদটির রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। মসজিদটি পুরাকীর্তির এক অনন্য নিদর্শন। বর্তমানে মসজিদটির দেয়ালে ফাটল ধরেছে, মেঝে দেবে যাচ্ছে। ইতিহাসের কালের সাক্ষী প্রাচীন এই শিল্পসমৃদ্ধ মসজিদটির সংস্কারে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।